নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গত বুধবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবিধান সংশোধীন বিল পেশের সময় বিক্ষোভরত তৃণমূল সাংসদ আবু তাহেরকে ‘ধাক্কা’ মারা হয়। এই ইস্যুতে রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টুর বিরুদ্ধে ‘নালিশ’ জানিয়ে এবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি দিল ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ২১ আগস্ট বিড়লাকে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের উপ-দলনেত্রী শতাব্দী রায় এবং সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
২০ আগস্ট লোকসভায় তিনটি বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেগুলি হল ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকার (সংশোধনী) বিল এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল। উল্লিখিত তিনটি বিল পেশের সময়ই ওইদিন রীতিমতো ধুন্ধুমার বেঁধে যায় লোকসভায়। তৃণমূলের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সাংসদরা ওয়েলে নেমে এসে প্রবল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরিস্থিতি এতই বেগতিক হয়ে পড়ে, মার্শাল ডাকতে হয় সভাকক্ষে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগলানোর জন্য ছুটে যান অন্য দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রভনীত সিং বিট্টু। তৃণমূলের অভিযোগ, এই সময়ই ওয়েলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মুর্শিদাবাদের এমপি আবু তাহেরকে ‘ধাক্কা’ মারেন বিট্টু। কোনওরকম প্ররোচনা ছাড়াই এই কাজ করেন রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী।
তৃণমূল সূত্রের খবর, লোকসভার অধ্যক্ষকে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে সরকার পক্ষ। আবু তাহের শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শাসক পক্ষেরও তা অজানা ছিল না। তা সত্ত্বেও আক্রমণাত্মক হয়ে বলপূর্বক এমপিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন রভনীত সিং বিট্টু। তৃণমূলের অভিযোগ, বিক্ষোভরত সাংসদদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার জন্য রিজিজুও ‘উস্কানি’ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট তিনটি বিল পেশ করতে পারেননি অমিত শাহ। পরিবর্তে তা যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়েছেন। শনিবার ওই সংসদীয় কমিটিকেও একটি ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। একইসঙ্গে দল জানিয়ে দিয়েছে, ওই কমিটিতে তৃণমূল কাউকে পাঠাবে না।