নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: এবার কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষে রাজবংশী মুখ আনার দাবি উঠল খোদ জোড়াফুলের অন্দরেই। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। তৃণমূল নেতা অমর রায় হত্যা মামলায় নাম জড়িয়েছে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও তাঁর অনুগামী পরিমল বর্মন, খোকন মিয়াঁর। এই ঘটনার পরেই রবিবাবু দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, মন্ত্রী উদয়ন গুহর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এবার একধাপ এগিয়ে দলের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হলেন খোকন-পরিমল। মৃত অমরের মা তথা ডাউয়াগুড়ি পঞ্চায়েতের প্রধান কুন্তলা রায়, অমরের বাবা মহিম রায়, দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুমকি দিলেন তাঁরা। প্রয়োজনে এই ঘটনার তদন্তভার পুলিশের পরিবর্তে সিআইডি করুক বলেও রবিবার মন্তব্য করেন পরিমলবাবু।
আজ, সোমবার জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক তার আগে দলের কিষান খেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি খোকন মিয়াঁ, আইএনটিটিইউসির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য পরিমল বর্মনের এমন দাবিতে দলের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিন কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সামনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ওই দুই পুরনো তৃণমূল নেতা। তাঁরা দু’জনই দলের বর্তমান জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
পরিমল বর্মন বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগে মৃত অমর রায়ের বাবাকে দিয়ে এসব করানো হচ্ছে। দলের পুরনো কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা এসব বলছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা মানহানির মামলা করব। আমি মনে করি, এর সিআইডি তদন্ত করা দরকার। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব।
খোকন মিয়াঁ বলেন, অভিজিৎ দে ভৌমিক, উদয়ন গুহ পুরনো নেতা-কর্মীদের নিধনের পরিবেশ তৈরি করছেন। পুরনোরা নয়, নতুনরা সব বলবেন এমনটা করা হচ্ছে। আমরা এসবের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এভাবে দল চলতে পারে না। যখন তখন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনীতিটা কী ছেলে খেলা? প্রয়োজনে কালীঘাটে যাব। জেলায় রাজবংশী ও নস্য শেখদের বঞ্চিত করে রাজনীতি করা হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করব এখানে দলে রাজবংশী জেলা সভাপতি যাতে করা হয়।
উদয়ন গুহকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। দলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকে এ প্রসঙ্গে জানার জন্য বারবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি।