সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়ি-২ ব্লক নিয়ে শাসক দলের মাথাব্যথা যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রথমে শাসক দলের ঘোষিত বিজয়া সম্মিলনির কর্মসূচির তালিকায় সিউড়ি ২ ব্লকের নাম না থাকা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। বিতর্কের ইতি টেনে ব্লক সভাপতি বিজয়া সম্মিলনির ডাক দিতেই প্রকাশ্যে চলে আসে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ব্লক সভাপতি নরুল ইসলাম আগামী ১৪ অক্টোবর বিজয়া সম্মিলনির ডাক দেওয়ার পরই তড়িঘড়ি ১১ অক্টোবর বিজয়া সম্মিলনি নিয়ে একটি অলোচনার ডাক দিয়ে বসেন তাঁর বিপক্ষ গোষ্ঠী। যদিও পরবর্তীতে সেই কর্মসূচি বাতিল করতে হয় তাঁদের। তা নিয়েই শুরু রাজনৈতিক তর্জা। বিরোধীদের দাবি, সিউড়ি-২ এর এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর নিয়ন্ত্রণে নেই শাসক দলের। তারই নমুনা এই ঘটনা।
সিউড়ি-২ ব্লকে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। আগেও বারবার সামনে এসেছে। মূলত সভাধিপতি কাজল শেখ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সিউড়ি-২ ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলামের অনুগামীদের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল অনুগামী অশ্বিনী মণ্ডল অনুগামীদের মধ্যে সংঘাত সর্বজনবিদিত। বারবার ঘটেছে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। এমনকি এলাকায় বোমা বাঁধার ভিডিও দেখিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন নুরুল। শাসক দলের ঘোষিত কর্মসূচিতে একই ব্লকে দু’টি পৃথক পৃথক মিছিলও হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে রাজ্য নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এমনকি পুজোর আগে কোর কমিটিকে নিয়ে কলকাতায় বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সি। সেখানেও সিউড়ি-২ নিয়ে অনুব্রত ও কাজলের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধে বলে দলীয় সূত্রে খবর। এরপরেই রাজ্য নেতৃত্বের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, জেলার বাকি সব ব্লকের ব্যাপারে কোর কমিটি হস্তক্ষেপ করলেও সিউড়ি ২ নিয়ে কোনওপ্রকার সিদ্ধান্ত কোর কমিটি নেবে না। যা নেওয়ার তা নেবে রাজ্য নেতৃত্ব। তৃণমূল দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার বোলপুরে তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠক হয়। বুধবার জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজয়া সম্মিলনির অনুষ্ঠান হয়। সেখানেই জেলার সমস্ত ব্লকের বিজয়া সম্মিলনির তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাদ রাখা হয় সিউড়ি ২ ব্লককে। কিন্তু বিতর্কের ইতি টেনে গতকাল সন্ধ্যায় সভাধিপতি কাজল শেখ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সিউড়ি ২ ব্লকের ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম ১৪ তারিখ বিজয়া সম্মিলনির ডাক দেন। তৃণমূলের অন্দরের খবর, এরপরেই অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিতরা ১১ তারিখ বিজয়া সম্মিলনির নিয়ে আলোচনার ডাক দেন। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসেজ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই মেসেজ ডিলিট করে দিতে হয়। এই নিয়ে অনুব্রত ঘনিষ্ঠ অশ্বিনী মণ্ডল বলেন, ওটা ভুলবশত হয়েছিল। আমার সঙ্গে আলোচনা না করেই মেসেজ করা হয়েছিল। আমি মেসেজ দেখা মাত্র তাঁকে বলেছি এটা করা ঠিক হয়নি। ডিলিট করে দে। সে ডিলিট করে দেয়। অন্যদিকে যিনি মেসেজ সেই আমিনুল ইসলাম ওরফে সেন্টু বলেন, ১১ তারিখে আমাদের অন্য কর্মসূচি রয়েছে। সেটা আমার জানা ছিল না। তাই ওই মেসেজ ডিলিট করেছি। আর নুরুল ইসলাম ১৪ তারিখ সম্মিলনির ডাক দিয়েছেন। সেটা কে করতে বলেছেন, সেটা জানি না। নুরুল ইসলাম বলেন, এটা যে পোস্ট করেছে তাঁরাই বলতে পারবে। আমি কীভাবে বলব। দলের নির্দেশ মতো আমি ১৪ তারিখ বিজয়া সম্মিলনির ডাক দিয়েছি।