Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুরে বাম নেতাকে মারধর নেত্রীকে বহিষ্কার করল তৃণমূল

সোমবার অভিযুক্ত বেবি কোলেকে বহিষ্কার করল রাজ্য নেতৃত্ব।

খড়্গপুরে বাম নেতাকে মারধর নেত্রীকে বহিষ্কার করল তৃণমূল
  • ৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: খড়্গপুর শহরে প্রবীণ বামপন্থী নেতা অনিল দাসকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর ও গায়ে রং ঢেলে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। সোমবার অভিযুক্ত বেবি কোলেকে বহিষ্কার করল রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্য তৃণমূলের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন তৃণমূলের কর্মীদের একাংশ। জানা গিয়েছে, সোমবার মেদিনীপুরে ২১জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দেন রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি সুব্রত বক্সি ও  সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। প্রস্তুতি বৈঠকের পর জেলা তৃণমূলের নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করে নেতৃত্ব। বৈঠকে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব খড়্গপুর শহরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে। এরপরেই ওই নেত্রীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন জয়প্রকাশ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার পর ওই নেত্রীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল কোনওভাবেই অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করবে না। দোষ করলে কেউ ছাড় পাবেন না।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় অনিলবাবু সিপিএম নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি আমরা বামপন্থী নামে একটি সংগঠন চালান। এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান অনিলবাবু। গত ৩০জুন তাঁকে রাস্তার ধারে ঘিরে ফেলেন তৃণমূল নেত্রী বেবি। রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। নিজেকে রক্ষা করতে রাস্তার পাশে একটি রংয়ের দোকানে ঢুকে পড়েন অনিলবাবু। সেই দোকানে ঢুকে রংয়ের বালতি দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকী তাঁর মুখে ও গায়ে রং লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে সমালোচনা হয়। অনিলবাবু স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযুক্ত নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দলের তরফে অভিযুক্তকে বহিষ্কার করলেও কেন ওই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হবে না এনিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আক্রান্ত অনিলবাবু এদিন বলেন, দলের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও খুশি নই। কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে না? খড়্গপুরের মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ঘটনার পর হাইকোর্টে আবেদন করেছি।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বেবি কোলে আগে বিজেপি করতেন। ২০২২সালে সুযোগ বুঝে তিনি তৃণমূল যোগ দেন। এর আগেও বেশকিছু ঘটনায় তাঁর নাম সামনে এসেছে। এই ঘটনার পর দলের তরফে বেবিকে শো-কজ করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, অনৈতিক কাজ দল কোনওভাবেই মেনে নেবে না। তাই উচ্চ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকলকেই দলের নিয়ম অনুসারে চলতে হবে।  (ফাইল চিত্র)। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ