রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: উন্নয়ন, অগ্রাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি— এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে নারী সশক্তিকরণ ও ক্ষমতায়নে জোর দিচ্ছে তৃণমূল। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই ছাব্বিশের ভোট-যুদ্ধে মহিলা টিম সাজাচ্ছে জোড়াফুল শিবির।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গ্রাম থেকে শহর গলা মিলিয়েছিল তৃণমূলের ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ স্লোগানে। মহিলা সমাজ তাদের সমর্থন উজাড় করে দেয় তৃণমূলের ভোট বাক্সে। সেবার তৃণমূল জিতেছিল ২১৫টি বিধানসভা আসনে। তার আগের বিধানসভা ভোটে অর্থাৎ ২০১৬ সালে তৃণমূল জিতেছিল ২১১টি আসনে। ২০১১ সালে জোড়াফুল শিবিরের জয় এসেছিল ১৮৪টি আসনে। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ মনে করে, তৃণমূলের এই প্রত্যেকটি জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে মহিলা ভোটের।
তাই ছাব্বিশের নির্বাচনে মহিলা ভোটব্যাংককে দলের আরও অনুকূলে আনতে চাইছে শাসক দল। তার জন্য একদিকে যেমন নারী সমাজের উন্নয়ন তুলে ধরা হচ্ছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের একটা বড় অংশে মহিলা প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে চলেছে তারা। একুশের নির্বাচনে তৃণমূল ২৯১টি আসনে লড়াই করেছিল। তাদের মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০। তার আগে অর্থাৎ ২০১৬-র নির্বাচনে ৪৫ জন মহিলা প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ৮ জন মহিলা রয়েছেন রাজ্য মন্ত্রিসভায়। আর তৃণমূলের বর্তমান মহিলা বিধায়কের সংখ্যা ৩৮। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছে ২৯টি আসন। সেই ভোটে তৃণমূলের ৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জন ছিলেন মহিলা। তার মধ্যে ১১ জনই বর্তমানে সাংসদ। তাছাড়া রাজ্যসভায় এখন তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন মহিলা। পাশাপাশি, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভাতেও রেকর্ড সংখ্যক মহিলা প্রতিনিধি রয়েছে তৃণমূলের। এই প্রেক্ষাপটে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও অনেক মহিলা প্রার্থীকে তৃণমূল সামনে আনতে চলেছে বলে খবর। তার জন্য লড়াকু, সংগ্রামী মহিলা মুখের খোঁজও শুরু করেছে তৃণমূল।
রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নারী সমাজের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। গোটা দেশে নারী উন্নয়নে বাংলার সরকারই মডেল। কেন্দ্রের রিপোর্টের ভিত্তিতেই কলকাতা পেয়েছে দেশের নিরাপদতম শহরের তকমা। নারী সমাজের এই অগ্রগতি ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পরিষদীয় রাজনীতির বৃত্তে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে তৎপর হয়েছে তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছিল, সেই ধারা অব্যাহত রেখে ২০২৬-এর নির্বাচনেও এনিয়ে বিশেষ বার্তা দিতে চলেছে তৃণমূল। তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘মহিলা সশক্তিকরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বাংলা অগ্রণী। মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলা, চাকরি, শিক্ষা এবং সংসদীয় ও রাজনৈতিক পরিসরে তাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করে নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি।’



