নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এক সপ্তাহ আগে বড়জোড়ার দলীয় সভা থেকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি পরেও যে বাঁকুড়ায় তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব কমেনি, তা ফের একবার প্রমাণ হয়েছে। বাঁকুড়া পুরসভায় দলের ওয়ার্ডের পার্টি অফিসেই ‘প্রবেশ নিষেধ’ হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারের। বাঁকুড়া শহরের ১৭নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বন্দনা লোহার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁকে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। বর্তমানে কাউন্সিলার নিজের কাপড়ের দোকানে বসে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পরিষেবা দিচ্ছেন। ঘটনায় শাসক দলের অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া আসনে তৃণমূল পরাজিত হয়েছিল। তারপরেও যে শাসক দলের বুথ ও ওয়ার্ড স্তরের নেতানেত্রীদের শিক্ষা হয়নি, তা এই ঘটনাতে স্পষ্ট। এভাবে চললে দল বিপাকে পড়তে পারে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে।
বন্দনাদেবী বলেন, গত পুরভোটে আমাকে নিয়ে তিনজনের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তৈরি হয়। ওই তালিকায় আমার নাম ছিল তিন নম্বরে। বাকি দু’জন ওয়ার্ডের দুই প্রভাবশালী নেতার মেয়ে ও আত্মীয়া। তাঁদের টপকে দল আমাকে টিকিট দেয়। তাতেই আমি সেই সব নেতার চক্ষুশূল হই। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। ফলে গাছতলায় বসেও তাঁদের পরিষেবা দিতে অসুবিধা নেই। তবে, সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়লে রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে কাউন্সিলারকে খোঁজে। সেখানে আমাকে গত প্রায় চার বছর ধরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ওয়ার্ড সভাপতির কাছে পার্টি অফিসের চাবি চেয়েছিলাম। তিনি তা দেননি। এভাবে আমার বিরুদ্ধাচারণ করে তাঁরা দলেরই ক্ষতি করছেন। তৃণমূলের ১৭নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি দীপক দাস বলেন, গত চার বছর ধরে কাউন্সিলারের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। ভোটে জেতার পর থেকে তিনি আমাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন। ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে শুরু থেকেই তিনি আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেন না। ফলে কাউন্সিলার কোন মুখে পার্টি অফিসে আসবেন? উনি নিজেই অফিসে আসেন না।
তৃণমূলের বাঁকুড়া শহর সভাপতি শিবাজি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কাউন্সিলার হোন বা সভাপতি, ওয়ার্ডে দলের কাজ সকলকেই করতে হবে। আমরা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করব না। দু’পক্ষকে নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করব।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষমতা নিয়ে কাউন্সিলার ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চলছে। রাস্তাঘাট সহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কাউন্সিলারদের একাংশ বাকিদের অন্ধকারে রাখে বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ। সেই কারণে ওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে কাউন্সিলারদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে দু’পক্ষই ‘হিসেব’ বুঝে নিতে চাইছে। তারা একে অন্যকে ‘টাইট’ দিতে কসুর করছে না। পার্টি অফিসে ঢুকতে পারেননি। দোকানে বসে কাজ সারছেন বাঁকুড়া পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বন্দনা লোহার। নিজস্ব চিত্র