নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়গপুর: অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হল। খড়্গপুর-২ ব্লকের কালিয়াড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির বোর্ড গঠন করল তৃণমূল। এই সমবায় সমিতি দখলের জন্য এগিয়েছিলেন রাম-বাম উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু, চুপিসারে জোট করেও পারল না বিরোধী শিবির। সমবায় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২জুন ছিল মনোনয়নপত্র তোলা ও জমা দেওয়ার দিন। এই প্রাচীন সমবায় সমিতির মোট আটটি ডিরেক্টর পদের জন্য ভোট হয়েছিল। স্থানীয় এলাকার মোট ৪৫জন প্রতিনিধি ভোটাধিকার পেয়েছিলেন। তবে ৪৫জনের মধ্যে ৪১জন ভোট দেন। তৃণমূল মনোনীত প্রার্থীরা ২৬টি ভোট পেয়েছেন। আর বিরোধীরা ১৫টি ভোট পেয়েছেন। বর্তমানে তৃণমূলের আটজন ডিরেক্টর পদে বসেছেন। এর মধ্যে সম্পাদক পদে বসেছেন রঞ্জিত পাটি। সভাপতির পদে বসেছেন বলাই শী। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, নতুন বোর্ডের সদস্যরা নানা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। সমবায় সমিতির ফাঁকা জমিতেও নানা প্রকল্পের কাজ হবে। শহরে কিছুটা থাকলেও বুথস্তরে বিরোধী শিবিরের সংগঠন ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় পিংলা বিধানসভার বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বাংলাকে সাজিয়ে তুলছেন। বাদ যায়নি পশ্চিম মেদিনীপুরও। আগে গ্রাম বাংলায় রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যা ছিল। বেশিরভাগ মানুষ এখন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। যার প্রভাব পড়ল এই নির্বাচনে। জয়ী সদস্যদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ১৯৫৮সাল থেকেই এই সমবায় সমিতি পথ চলা শুরু করে। শুরুর দিকে সমবায় সমিতির নিজস্ব কোনও ভবন ছিল না। তবে ধীরে ধীরে সমিতির ভোল বদলাতে শুরু করে। এই সমিতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই সমবায় সমিতির মাধ্যমে বছরে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়। সমবায় সমিতির আধিকারিকরা বলেন, এই সমবায় সমিতির নিজস্ব ধান কাটার মেশিন আছে। তার মাধ্যমে উপকার পান স্থানীয় চাষিরা। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সমবায় সমিতির কমিউনিটি হল ভাড়া নেন। সমিতির তরফে স্থানীয় কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার, কীটনাশক দেওয়া হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বহু মানুষ সমবায় সমিতিতে সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলেছে। সারাদিনে প্রচুর মানুষ সমবায় সমিতিতে আসে। বর্তমানে মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে গাড়ি লোনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই গাড়ি কিনে ব্যবসা করছেন।
খড়্গপুর-২ ব্লক তৃণমূল নেতা সাহেব দে বলেন, সিপিএম ও বিজেপি লড়াই করেও পারেনি। আসলে মানুষ ওদের অত্যাচারের কথা আজও ভুলতে পারেনি। তাই মানুষ তৃণমূলের পক্ষেই আছে। এই সমবায় সমিতির মূল মন্ত্র হল একতা। নতুন বোর্ড ভালো কাজ করবে বলেই আশাবাদী।-নিজস্ব চিত্র