Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির গরিষ্ঠতা সত্ত্বেও ভোটাভুটিতে সাগরপাড়ায় বোর্ড গড়ল তৃণমূল কংগ্রেস

বিজেপির গরিষ্ঠতা সত্ত্বেও ভোটাভুটিতে সাগরপাড়ায় বোর্ড গড়ল তৃণমূল কংগ্রেস
  • ৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: টানটান উত্তেজনার মধ্যে সম্পন্ন হল সাগরপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এবারও বোর্ড গড়তে পারল না বিজেপি। কৌশলে বোর্ড দখলে রাখলে তৃণমূলই। আর পুনরায় বোর্ডের প্রধান নির্বাচিত হলেই সেই বৈশাখী মণ্ডলই। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে ৩০ আসনের সাগরপাড়া পঞ্চায়েতে বিজেপি পেয়েছিল ১৬টি, কংগ্রেস ৫টি, সিপিএম ৫টি ও তৃণমূলের দখলে এসেছিল ৪টি আসন। কিন্তু শেষকালে বোর্ডের দখল নিয়েছিল তৃণমূল। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, ভোটাভুটিতে ১৩ জন সদস্যের সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তৃণমূল আর বিজেপি পেয়েছে ১২ সদস্যের সমর্থন। প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন সেই সময়ে বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বৈশাখী মণ্ডল। এরপরই বিজেপি সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যালট নষ্ট ও কারচুপির অভিযোগ তুলে বোর্ড বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে গত ৮ এপ্রিল প্রধান বৈশাখী মণ্ডলকে অপসারণ করে এক মাসের মধ্যে পুনরায় ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই মোতাবেক বুধবার ছিল পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন। গতবার বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এবার অশান্তি এড়াতে মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিস। মজুত রাখা হয়েছিল কমব্যাট ফোর্স। অশান্তি এড়াতে পঞ্চায়েতের ১০০ মিটারের মধ্যে সমস্ত দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল। সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে নিজে উপস্থিত ছিলেন ডোমকল এসডিপিও শুভম বাজাজ। এদিন সকালবেলা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সমস্ত সদস্যকে পঞ্চায়েতের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। বিজেপির সঙ্গে সেই সময়ে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল ১৬ সদস্যকে। বিজেপিও দাবি করেছিল, ২ কংগ্রেস সদস্য আগেই যেহেতু যোগ দিয়েছিল, তাই তাদের কাছে ১৬ জনের সমর্থন রয়েছে। এরপরেই শুরু হয় আসল খেলা। সূত্রের খবর, আগেই কৌশলী চালে বিজেপি ও বাম কংগ্রেসের সদস্যদের সঙ্গে গোপনে  কথা হয়েছিল এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের। শর্ত ছিল, তাঁরা নিজের নিজের দলের সঙ্গে ঢুকলেও সমর্থন দেবে তৃণমূলকে। আর ঘটলও তাই। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরেও বিজেপি পায় মাত্র ১৪ জনের সমর্থন। আর তৃণমূলের সদস্য ৭ থেকে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৬। ফলাফল বেরোনোর পরপরই বেরিয়ে আসতে থাকে বিজেপির সদস্যরা। সেই সময় উর্মিলা বিশ্বাস নামে বিজেপির এক মহিলা সদস্য বলেন, ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার পরেও আমাদের মধ্যেই কয়েকজন বেইমানি করেছে। তৃণমূলের সদস্যরা বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন দলের নেতাকর্মীরা। চলে আবির মাখা। মালা পরিয়ে বরণ করা হয় প্রধান বৈশাখী মণ্ডলকে।
বৈশাখীদেবী বলেন, হ্যাঁ বিজেপি থেকেও আমাকে সমর্থন দিয়েছে। এই জয় সবার। খুব ভালো লাগছে। সবার সমর্থন পেয়ে আমি খুব খুশি। আমরা পঞ্চায়েতে এবারে আরও উন্নয়ন জড়তে পারব।
জলঙ্গি ব্লক উত্তর জোনের তৃণমূল সভাপতি আমজাদ আলি খান বলেন, একদিকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অন্যদিকে উন্নয়নের কারণেই আজ এই জয় হয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চার জলঙ্গি ২ মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় রানা বলেন, আমাদের পেছন থেকে ছুরি মারা হল। এইরকম করবে সদস্যরা ভাবতে পারিনি। আগামীতে এই নিয়ে দলে পর্যালোচনা হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ