নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার মামলায় কোনো হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি বি ভারালের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ‘কলকাতা হাইকোর্টে এ বিষয়ে যে মামলা চলছে, সেটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলছি। আমরা এখানে কিছু বলছি না।’ যদিও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার দাবিতে আদালতে নিজেদের পক্ষে নির্দেশ পেতে চেষ্টা চালিয়ে যান। সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, দলের কাজকর্ম চালাতে মাসে গড়ে ১২.১৫ কোটি টাকা খরচ হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে এই খরচ। এখন উপনির্বাচন এসে গিয়েছে। তাই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ হওয়ায় দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বলেন, আগের যে তিনটি এইচডিএফসি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত নির্দেশ ছিল, তার সঙ্গে বর্তমান চারটি ইন্ডিয়ান ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, পুলিশ একটি আলাদা এফআইআর করেছে। দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত এটি। বলেন, দলের এক নেতার আপ্তসহায়ক সরকারি জমিকে বেসরকারি বলে বিক্রি করেছেন। ৩৫ কোটি টাকা নগদে জমা করেছেন। যা শুনে সিংভি পাল্টা বলেন, এসব অভিযোগ বর্তমান এফআইআরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অহেতুক আদালতের সামনে বলা হচ্ছে। যদিও থামেননি তুষার মেহতা। বলেন, তৃণমূলের এখন দুটি ভাগ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। অন্য গোষ্ঠীও দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে চাইছে। উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতি সুন্দরেশ তাঁর নির্দেশে বলেন, আগের আদালতের নির্দেশ অন্য অ্যাকাউন্টগুলিকে কেন্দ্র করে। এখনকার ইন্ডিয়ান ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্টের বিষয়টি আলাদা। রাজ্যের পক্ষ থেকে নতুন অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে। ওদিকে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নির্বাচনি প্রতীক ফ্রিজ করেছে। ফলে কারা তৃণমূলের অর্থের অধিকারি, সেই বৃহত্তর প্রশ্ন এখনো বিচারাধীন। তাই এখন আমরা সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করছি না। তবে মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টকে দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিচ্ছি।


