ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: বাড়িতে নলকূপ বা কুয়ো নেই। রাস্তার টাইমকলের চাতালে বসে স্নান সারেন! গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও ভরসা ওই কল। এক কামরার ছোট্ট ঘরের সঙ্গে রয়েছে মুদি দোকান। সেখান বয়ামে অল্প কিছু বিস্কুট, লজেন্স। পান খাওয়ার চুন-সুপারি, খাতা-পেন। এটা তাঁর অফিসও বটে! সকাল থেকে গ্রামের লোকজন ভিড় করেন। দোকানে বসে তাঁদের সার্টিফিকেট লিখে দেন জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা রাউত। দোকানের মাঝে পুরনো একটা সেলাই মেশিন রাখা। সময় পেলে টুকটাক সেলাই করেন। গাড়ি নেই। কোনওদিন স্বামীর পুরনো বাইকে চেপে পঞ্চায়েত অফিসে যান। নতুবা বেশিরভাগ দিনই বাড়ি থেকে প্রায় চার কিমি দূরে পঞ্চায়েতে টোটোয় যাতায়াত করেন অনিতা।
পাহাড়পুরের পাতকাটা কলোনিতে তৃণমূল কংগ্রেসের দু’বারের এই পঞ্চায়েত প্রধানের পঞ্চায়েত প্রধানের ঘরে উঁকি মারলে খানিকটা অবাকই হতে হয়। ছোট্ট কামরার ভিতর দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে চারজনের বসবাস। একদিকে বাসনপত্র, পাশে ডাঁই করা জামাকাপড়। দু’ফুট জায়গায় একটা গ্যাস সিলিন্ডার এবং ওভেন রাখা। আর পাঁচজন প্রধানের গাড়ি-বাড়ি, বৈভব ঘিরে যখন প্রশ্ন ওঠে, জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েতের প্রধান হয়েও অনিতার সাদামাটা জীবনযাপনের প্রশংসা করছেন বিরোধীরাও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আদর্শ অনিতার। নেত্রীকে কাছ থেকে দেখা, কথা বলার ইচ্ছে। কিন্তু বড় অনুষ্ঠানে মঞ্চে ঠাঁই হয় না। একুশে জুলাই কলকাতায় শহিদ সমাবেশে যেতে পারছেন না। বললেন, জলপাইগুড়ি থেকে ট্রেনে কলকাতায় যাওয়া-আসার খরচ জোগাড়ের সামর্থ্য নেই। ঋণ নিয়ে ছেলেমেয়েকে পড়াতে হচ্ছে।
অনিতার কথায়, পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পাই। বাড়িতে ছোট্ট দোকান আছে। এছাড়া মেলা-পুজোয় দোকান দিই। স্বামী এখন ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্প্রের কাজ পেয়েছেন। সবমিলিয়ে টেনেটুনে সংসার চলে।
পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বিজেপির চিত্ত রায় বলেন, তৃণমূলের আর পাঁচটা প্রধানের চেয়ে আমাদের প্রধানের জীবনযাত্রা সাদামাটা।
অনিতার ছেলে সৈকত জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মেয়ে আরাধ্যা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। এখন স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (সাই) জলপাইগুড়ির সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। নিজের দোকানে অনিতা রাউত। - নিজস্ব চিত্র।