নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি শহরে প্রায় ১৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, ওই নির্বাচনে ময়নাগুড়ি শহরে প্রায় তিন হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে রাজ্যের শাসকদল। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভোটে জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে বাজিমাত করতেই দুই পুরসভায় চেয়ারম্যান বদল করল তৃণমূল। গত লোকসভায় মালবাজার শহরেও বেশ কয়েক হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল জোড়াফুল শিবির। ওই পুরসভাতেও কয়েকমাস আগে চেয়ারম্যান বদল হয়েছে। ফাঁকা ছিল ভাইস চেয়ারম্যানের পদ। বৃহস্পতিবার তা পূরণ করা হল। জলপাইগুড়ি কিংবা ময়নাগুড়ি পুরসভায় নয়া চেয়ারম্যান হিসেবে দলের তরফে এদিন যাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তাতে স্পষ্ট, যুবশক্তিকে সামনে রেখেই এই দুই শহরে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘুঁটি সাজাচ্ছে জোড়াফুল।
পাপিয়া পালকে সরিয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান করা হল সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। জলপাইগুড়ি পুরসভায় ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতকে। অন্যদিকে, প্রাক্তন বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীকে সরিয়ে ময়নাগুড়ি পুরসভায় নয়া চেয়ারম্যান করা হল মনোজ রায়কে। তিনি ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ময়নাগুড়ি পুরসভায় নয়া ভাইস চেয়ারম্যান হলেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সোমেশ (ঝুলন) সান্যাল।
স্বপন সাহাকে সরিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে মাল পুরসভায় চেয়ারম্যান করা হয় উৎপল ভাদুড়িকে। তিনি ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁকে চেয়ারম্যান করায় ভাইস চেয়ারম্যান পদটি এতদিন ফাঁকা ছিল। এদিন সেখানে ভাইস চেয়ারম্যান করা হল ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মিলন ছেত্রীকে।
নয়া চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণার পর এদিন রাতে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে জেলার তিন পুরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হল। এর বেশিকিছু বলা সম্ভব নয়।
জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারপার্সন হিসেবে পাপিয়া পালকে নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছিল। পুরবোর্ডের বয়স সাড়ে তিন বছর হয়ে গেলেও জলপাইগুড়ি শহরে সেভাবে উন্নয়নের ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলছিলেন দলেরই বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলাররা। তাছাড়া চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও সময়ে পুরসভায় না আসার অভিযোগও ছিল। চেয়ারপার্সনের জনসংযোগ নিয়েও প্রশ্ন ছিল। সবমিলিয়ে অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল জলপাইগুড়ি পুরসভায় চেয়ারপার্সন বদল হবে। অবশেষে তা হল। যদিও এনিয়ে পাপিয়া পাল বলেন, দলের অনুগত সৈনিক আমি। দল যা নির্দেশ দেবে, সেইমতো কাজ করব। নতুন যাঁরা দায়িত্ব পেলেন, তাঁদের শুভেচ্ছা। সৈকত বলেন, পুরবোর্ড এখনও একবছর আটমাস আছে। জলপাইগুড়িকে মডেল পুরসভা করাই লক্ষ্য। দু’দিন আগেই সৈকত তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। ফলে পুরসভা পরিচালনার পাশাপাশি দলের কাজেও জোর দিতে চান তিনি।
ময়নাগুড়িতে গত সাড়ে তিন বছর ধরে পুরসভা চালালেন প্রাক্তন বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। তাঁকে সরানোর পিছনে বয়স একটা ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন ময়নাগুড়ি পুরসভার নয়া চেয়ারম্যান হয়ে মনোজ রায় বলেন, সাংগঠনিক কাজকর্মের পাশাপাশি ময়নাগুড়ি শহরের উন্নয়নই আমার পাখির চোখ। নিজস্ব চিত্র।