Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টি মাথায় সকাল থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী আলিফা

মঙ্গলবার ছিল কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন। কিন্তু সকাল থেকেই জেলাজুড়ে অবিরাম ঝিরঝিরে বৃষ্টির কারণে শেষ দিনের প্রচারে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

বৃষ্টি মাথায় সকাল থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী আলিফা
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মঙ্গলবার ছিল কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন। কিন্তু সকাল থেকেই জেলাজুড়ে অবিরাম ঝিরঝিরে বৃষ্টির কারণে শেষ দিনের প্রচারে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। বৃষ্টি ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বেশ কিছুটা দেরিতে শুরু হয়। তবুও আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেই রাজনৈতিক দলগুলি তাদের শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়ে যায় অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। কালীগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত পলাশী ও দেবগ্রাম এলাকায় দিনভর চলতে থাকে রাজনৈতিক সভা, মিছিল ও জনসংযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে প্রচারে অংশগ্রহণ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ সায়নী ঘোষ। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোটের প্রচারে ছিলেন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, সাংসদ ইশা খান চৌধুরী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপির পক্ষে প্রার্থী সমর্থনে প্রচারে অংশ নেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক শিবিরই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। 

Advertisement

এদিন সকাল থেকেই বৃষ্টির মধ্যে প্রচারে নামেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আলিফা আহমেদ। কালীগঞ্জ বিধানসভার প্রত্যন্ত গোবরা পঞ্চায়েতের নয়াচর এলাকায় বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ সারেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালী খাতুন। গোবরা পঞ্চায়েতের নয়াচরে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন তাদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যা। সেখানে মানুষের রাস্তা খারাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। সেই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন প্রার্থী। তিনি বলেন, নয়াচর এলাকার মানুষরা আমাদের বরাবরই খুব ভালোবাসেন। এখানকার মানুষের রাস্তাঘাট নিয়ে কিছু দাবি রয়েছে। সকালকে নিয়েই আমরা এলাকার বিভিন্ন রাস্তা পরিদর্শন করে গেলাম। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা চেষ্টা করব রাস্তাগুলো সংস্কার করার। বিকেলের দিকে পলাশীতে তৃণমূলের প্রচারে আসেন সাংসদ সায়নী ঘোষ। এলাকায় মিছিল ও পথসভায় অংশ নেন তিনি। 
এরই মধ্যে পলাশীর রেলেগেটের কাছে বাম-কংগ্রেস ও তৃণমূলের মিছিল মুখোমুখি পড়ে যায়। তখন দুই শিবিরই স্লোগানে ঝাঁঝ বাড়ায়।‌ বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েত, পলাশী বাজার, ফুলবাগান, পাগলাচণ্ডী, দেবগ্রাম, কটোয়া মোড় সহ বিভিন্ন জায়গায় হুডখোলা গাড়িতে প্রচার সারেন বাম-কংগ্রেস প্রার্থী ও নেতারা। ছিলেন সিপিএমের এম এম সাদি, আরএসপির ধনঞ্জয় মোদক প্রমুখ। কালীগঞ্জ বিধানসভার কংগ্রেসের সহ পর্যবেক্ষক তাতা ভট্টাচার্য বলেন, মঙ্গলবারের প্রচার খুব ভালো হয়েছে। বিধানসভার বিভিন্ন জায়গায় জনসংযোগ করা হয়েছে।‌ মানুষের মধ্যে ভালো সাড়া রয়েছে। বামফ্রন্টের সঙ্গে যৌথভাবে প্রচার করা হয়েছে।
বিজেপিও পিছিয়ে নেই প্রচারের দৌড়ে। বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এদিন বিকেলের দিকে কালীগঞ্জের দেবগ্রামে প্রার্থীকে নিয়ে মিছিল করেন। মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেন, বিজেপিকে ভোট দিলে মানুষের প্রতিবাদ রেজিস্টার্ড হবে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পিছন দরজা নিয়ে ধর্মের ভিত্তিতে রিজারভেশন দিতে চাইছেন। হিন্দু-মুসলমানকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ