নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, বরানগর ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: রাজ্যের মোট ১,৮০৬ জন ‘অযোগ্য’ শিক্ষকের নাম ঘোষণা করেছে এসএসসি। শনিবার রাতেই তা প্রকাশ্যে আসে। তাতেই তৃণমূল নেতানেত্রীদের পরিজনদের রাতারাতি ‘অযোগ্য’ হওয়ার বিষয়টি, বেরিয়ে আসায় রবিবার সকাল থেকে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। বেলা যত গড়িয়েছে, তালিকায় শাসকদলের নেতাদের পরিচিতদের বহর ক্রমশ বেড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় অযোগ্যদের তালিকায় রয়েছেন বারাসত ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির ছেলে, নিউ বারাকপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের মেয়ে। এখানেই অবশ্য শেষ নয়, হিঙ্গলগঞ্জের এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রীর মেয়েও চাকরি খুইয়েছেন। এই বিতর্কে নাম জড়িয়েছে বনগাঁর এক প্রাক্তন বাম নেতার। ফলে, রবিবার সকাল থেকেই এ নিয়ে চলছে রাজনৈতিক চর্চা। ‘অযোগ্য’দের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, সেই সব পরিবারকে গ্রাস করেছে হতাশা।
ওই তালিকায় ৭৯১ নম্বরে রয়েছে বারাসত ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ইছা হক সর্দারের ছেলে মহম্মদ নাজিবুল্লাহর নাম। তিনি সোনারপুরের জগদ্দল উমাচরণ হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি বলেন, যেখানে স্কুল সার্ভিস কমিশন বারবার আদালতে বলেছে, ওএমআর শিট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেখানে কীসের ভিত্তিতে তাঁরা অযোগ্যদের তালিকা তৈরি করল? কোন তথ্যের ভিত্তিতে অযোগ্য ঘোষণা করল? আমরা এনিয়ে আদালতে যাব। যদিও এ নিয়ে তাঁর বাবা ইছা হক সর্দার কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, অযোগ্য শিক্ষকের তালিকায় নাম উঠতেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন হিঙ্গলগঞ্জের যোগেশগঞ্জ এলাকার তৃণমূল নেত্রী সন্ধ্যা মণ্ডল ও তাঁর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। তাঁর নাম আছে ১,০৬৯ নম্বরে। শনিবার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর রবিবার ভোর হতে না হতেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান তাঁরা।
অন্যদিকে, নিউ বারাকপুরের মাসুন্দা বয়েজ হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষিকা ছিলেন শতাব্দী বিশ্বাস। তাঁর মা স্বপ্না বিশ্বাস বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা নিউ বারাকপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় ১,৩৬০ নম্বরে শতাব্দীদেবীর নাম রয়েছে। স্বপ্না বিশ্বাস বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর মেয়ে ভূগোলে মাস্টার্স করেছে। বিএডও আছে তার। দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পায়নি সে। পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই চাকরি পেয়েছিল। এখন কীভাবে অযোগ্যদের তালিকায় নাম উঠল, বুঝতে পারছি না।
তালিকায় নাম রয়েছে বনগাঁর একাধিক শিক্ষকের। এসএসসির প্রকাশ করা তালিকায় নাম থাকায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই তালিকায় ১,১৮৬ নম্বরে নাম রয়েছে বনগাঁর বাসিন্দা রীতেশ ঘোষের। তিনি নদীয়ার একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। এসএসসি’র এই তালিকা নিয়ে খেদের সুর তাঁর গলায়। বললেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ভুল ব্যাখ্যা করে ইচ্ছাকৃতভাবে এসএসসি এই কাজ করেছে। কী কারণে আমরা অযোগ্য সেটা স্পষ্ট করে বলা হোক। আদালতের নির্দেশেই তৈরি হয়েছিল কমিটি। সেই কমিটির তৈরি ডেটা মানছে না এসএসসি। তারা পঙ্কজ বনসলের বাড়ি থেকে পাওয়া কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ককে প্রাধান্য দিচ্ছে। অথচ আদালত সেই হার্ড ডিস্ককে মান্যতা দিচ্ছে না। এদিকে, রীতেশের সঙ্গে সিপিএমের যোগ নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, এক সময় সিপিএমের সদস্য ছিলেন রীতেশ। এমনকী যুবনেতাও ছিলেন। যদিও তাঁর সঙ্গে পার্টির সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন এই শিক্ষক। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, রীতেশ আগে দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখত। কিন্তু এখন দলের বাইরে। তাঁর সঙ্গে দলের কোনও সংস্রব নেই।