নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণ দেখিয়ে ফের লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। যার ফলে নতুন করে এসআইআর নিয়ে হয়রান হচ্ছে মানুষ। সামান্য ক্রটি থাকলেই দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়ে আধিকারিকদের কাছে নথিপত্র দেখাতে হচ্ছে, যা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। ভোটারদের এই হয়রানি লাঘব করতে প্রতিটি বুথেই মাঠে নেমেছেন তৃণমূলের বিএলএ’রা। কিন্তু ময়দানে দেখা যাচ্ছে না অন্য দলের নেতাকর্মীদের। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবে সাহায্য করা শাসকদলকে বাড়তি ‘ডিভিডেন্ড’ দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই শাসকদল ভোটারদের পাশে আছে। প্রথমে কেন্দ্রের নির্দেশে কমিশনের এসআইআরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল তৃণমূল। এখন ভোটারদের বিভিন্ন নথি ও তথ্য জোগাড় করতে শাসকদলের বিএলএরা সাহায্য করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার(ডেভিড) বলেন, এসআইআর নিয়ে আগেই জেলার প্রচুর মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণ দেখিয়ে ফের লক্ষ লক্ষ মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক অন্তঃসত্ত্বা ভোটার মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছেন। এক বৃদ্ধা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আতঙ্কে অনেকে মারা গিয়েছেন। এমনকী, বিএলওরা কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে মারা যাচ্ছেন। কেউ আত্মহত্যা করছেন। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে প্রতিটি মৃত্যুর দায় নিতে হবে। এসআইআরের মাধ্যমে ভোটারদের যেভাবে হয়রান করা হচ্ছে, তার জবাব আগামী নির্বাচনে মানুষ দেবে। আমরা সাধারণ মানুষের পাশে আছি। নানাভাবে তাঁদের সাহায্য করা হচ্ছে।
যদিও এসআইআর নিয়ে তৃণমূল দ্বিচারিতা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, এসআইআরকে সামনে রেখে বাংলায় প্রথমদিন থেকেই রাজনীতি হচ্ছে। রাজ্য সরকার প্রথমে বলল, এসআইআর করলে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেব। কিন্তু বিধানসভায় কোনও প্রস্তাব পাশ হল না। ওরা সুড়সুড় করে এসআইআর করতে পুরো দলকে নামিয়ে দিল। সমস্ত বুথে বিএলএ দিয়ে দিল। আর সরকারের ৮০হাজার আধিকারিককে কাজে লাগিয়ে দিল। রাজ্যে এখন রুজিরুটি, শিল্প-কারখানা নিয়ে আলোচনা নেই। এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার নিজেদের অপদার্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকেই সঠিকভাবে কাজ করছে। নির্ভুলভাবে এসআইআর হলে বহু ভুয়ো ভোটার বাদ যাবে। সেগুলি তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। তাই ওরা এসআইআরের বিরোধিতা করছে।’ বিরোধীরা এসআইআর ইস্যুতে শাসকদলের সমালোচনা করছে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের সাহায্য করতে বিরোধীদের সেভাবে ময়দানে দেখা যাচ্ছে না। ফলে কার্যত ফাঁকা মাঠে গোল দিচ্ছে তৃণমূল।