Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মল্লারপুরে আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণ, ধৃত ৬ অভিযুক্ত

রামপুরহাটে আদিবাসী নাবালিকা ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও টুকরো টুকরো করে খুনের ঘটনা এখনও টাটকা। দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলায় জোরদার শুনানি চলছে।

মল্লারপুরে আদিবাসী নাবালিকাকে গণধর্ষণ, ধৃত ৬ অভিযুক্ত
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে আদিবাসী নাবালিকা ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও টুকরো টুকরো করে খুনের ঘটনা এখনও টাটকা। দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলায় জোরদার শুনানি চলছে।  দু’টি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বছর তেরোর আদিবাসী নাবলিকাকে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল বীরভূমের মল্লারপুরে। সঙ্গীর সামনেই ওই নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। 

Advertisement

পুলিশ সোমবার রাতেই ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার রামপুরহাট আদালতে তোলার পথে পুলিশের সামনেই অভিযুক্তদের মারধর করার পাশাপাশি ফাঁসির দাবিতে সরব হন আদিবাসীরা। এদিকে, নাবালিকাকে রামপুরহাট মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে বলে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, এক ছেলের সঙ্গে নাবালিকা আসছিল। অভিযুক্তরা তাদের পথ আটকে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ কাছাকাছি এলাকায় ছিল। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ধরা পড়ে যায় ছ’জনই। 
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়ি রামপুরহাট থানা এলাকায়। সোমবার রাত আটটা নাগাদ সে এক আত্মীয়র সঙ্গে মেলা দেখতে মল্লারপুরের বাগানপাড়া গ্রামে গিয়েছিল। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তারা বাইকে করে বাড়ি ফিরছিল। মল্লারপুরের শিবপুর গ্রামের জঙ্গলের রাস্তায় তাদের বাইক আটকায় টোটোয় চড়ে আসা ছ’জন যুবক। এরপর নাবালিকা ও তার আত্মীয়কে বাইক থেকে নামিয়ে জঙ্গলের গভীরে নিয়ে যায়। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই যুবক আত্মীয়কে চেপে ধরে রাখে। আর বাকি চারজন নাবালিকার ইচ্ছের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। ওই আত্মীয় চিৎকার শুরু করতেই অভিযুক্তরা টোটোয় চেপে চলে যায়। সেখান থেকে কোনওরকমে ওই নাবালিকাকে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এদিকে, মেলা চলছিল বলে কাছাকাছি এলাকায় ছিল পুলিশের গাড়ি। রাতেই তারা বিষয়টি জানতে পারে। অভিযান চালিয়ে ছ’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল বনমালি ঘোষ, সমাপ্ত কোনাই, সুজিত ঘোষ, অরিন্দম সরেন, অভিজিৎ ঘোষ ও শুভজিৎ ঘোষ। সকলের বাড়ি শিবপুর গ্রামে। নির্যাতিতার মা অভিযোগে জানিয়েছেন, গভীর রাতে মেয়ে এবং ওই আত্মীয় বাড়ি ফিরে এসে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। অভিজিৎ এবং শুভজিৎ আত্মীয়কে চেপে ধরে রাখে। বাকিরা মেয়েকে ধর্ষণ করে। নির্যাতিতার বাবা বলেন, এদিন সকালে পুলিশ আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। থানায় ছ’জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছি। সকলের কঠোর শাস্তি চাই। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে থানায় হাজির হন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহাও।  তিনি বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।  
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে থানায় আসেন দিশম আদিবাসী গাঁওতার রাজ্য সভাপতি রবীন সরেন। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেই নাবালিকা আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণ ও টুকরো টুকরো করে খুন করে শিক্ষক মনোজ পাল। দ্রুত গতিতে যার বিচার প্রক্রিয়া চলছে রামপুরহাট আদালতে। ফের আদিবাসী মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হল। আমরা অভিযুক্তদের ফাঁসি চাই। সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, নিরাপত্তা আরও বাড়াতে হবে। গ্রামে সিভিক ভলান্টিয়াররা ঠিকমতো কাজ করছেন না। 
এদিন, অভিযুক্তদের রামপুরহাট আদালতের সামনে গাড়ি থেকে নামালে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন উপস্থিত আদিবাসীরা। আদালতে ঢোকানোর সময় পুলিশের সামনেই অভিযুক্তদের উপর চড়াও হয়ে মারধরও করতে থাকেন অনেকেই। আগামী সোমবার পর্যন্ত অভিযুক্তদের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ