সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নর্দমার নোংরা জল এবার ব্যবহৃত হবে চাষের কাজে। পরিকল্পনা রূপায়ণের কাজ শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই নবদ্বীপের বাবলারি পঞ্চায়েতে গ্রে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হয়ে যাবে। খরচ হচ্ছে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। প্ল্যান্টটি চালু হয়ে গেলে দু’টিভাবে উপকৃত হবে ওই পঞ্চায়েতের মানুষ। এক, নর্দমার জলে ফি বছর এলাকা ভেসে যাওয়া থেকে নিস্তার মিলবে। এতদিন নর্দমার জলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতো এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। কষ্টের ফসল নষ্ট হতো। সেই দুর্দশা থেকে মুক্তি পাবেন কৃষকরা। দ্বিতীয়ত, নর্দমার জল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে চাষের কাজে লাগানো হবে। নবদ্বীপ ব্লকের বাবলারি পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় সাত মাস আগে। এখন কাজ শেষের পথে। পঞ্চায়েতের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠছে এই গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট। ২০ মিটার লম্বা এবং ১০ ফুট গভীর দু’টি সুবিশাল চেম্বার করা হয়েছে। পঞ্চায়েত এলাকার নোংরা জল নর্দমার মাধ্যমে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্টে এসে পড়বে।
বাবলারি পঞ্চায়েতে বেশকিছু এলাকার নিকাশি নালা থাকলেও নোংরা জল ফেলার কোনও নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। ফলে নিকাশি নালার নোংরা জল অনেক সময় এলাকার বেশকিছু চাষের জমিতে গিয়ে পড়ত। আর ওই নোংরা জল ক্ষতি করত ফসলের। এবার তৈরি হওয়া দু’টি সুবিশাল চেম্বারে গিয়ে পড়বে নিকাশির জল। তারপর বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরিশোধিত হবে। সেই পরিশোধিত জল চাষের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এই পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় নিকাশি নালা রয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নর্দমার জল ফেলার নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা হোক। এবার সেই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল হাজরা বলেন, নর্দমার জল ফেলার কোনও নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। সেজন্য রাস্তায় ধারে বা নর্দমায় জল জমে থাকত। নর্দমার পচা জল থেকে এলাকায় দুর্গন্ধও ছড়াত। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এই নোংরা জল ফেলার ব্যবস্থা করায় এলাকার পরিবেশ ভালো থাকবে। ওই পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ কর্মকার বলেন, গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ২০ লক্ষ টাকা খরচে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। এই প্ল্যান্টের মাধ্যমে বাবলারি অঞ্চলের নোংরা জল নিকাশি নালার মাধ্যমে এই গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্টে এসে পড়বে। এরপর তা বিশেষ পদ্ধতিতে পরিশোধিত হবে। সেই পরিশোধিত জল কৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে। এক সপ্তাহের মধ্যেই প্ল্যান্ট তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। বাবলারি পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট চালুর পথে। -নিজস্ব চিত্র