সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: প্রতি বছর পেনশন পাওয়ার জন্য লাইফ সার্টিফিকেট জমা করার ঝক্কি সামলাতে হয় বয়স্কদের। শারীরিক অসুস্থতা, অক্ষমতা সত্ত্বেও তাঁদের ব্যাঙ্কে যেতে হয়। সেখানেও অনেক সময় হয়রানির অভিযোগ ওঠে। তাই ‘লাইফ সার্টিফিকেট’ জমা করা পেনশন ভোগীদের কাছে এক বিড়ম্বনার বিষয়। আর সিনিয়র সিটিজেনদের এই সমস্যাকে হাতিয়ার করে টাকা লুট করছে সাইবার প্রতারকরা। বাড়িতে বসেই লাইফ সার্টিফিকেট জমা করে দেওয়ার টোপ দিয়ে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা লুটের ঘটনা ঘটছে শিল্পাঞ্চলে। যা নিয়ে সতর্কতা মূলক ভিডিও প্রকাশ করতে হয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটকে।
কী ভাবে প্রতারণা? জানা গিয়েছে, পেনশন ভোগীদের ফোন করছে সাইবার প্রতারকরা। ব্যাঙ্কের আধিকারিক পরিচয়ে ফোন করে বলছে লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে আর ব্যাঙ্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বসে একটি নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমেই ফর্ম জমা হয়ে যাবে। এরপর তাঁকে একটি মেসেজ বা হোয়াটস অ্যাপে একটি লিংক পাঠানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে ওই লিংকে স্পর্শ করলেই ফর্ম জমা হয়ে যাবে। বয়স্করা সেই লিংকে স্পর্শ করলেই তাঁর ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রতারকদের মোবাইলে। এরপর ইচ্ছে মতো তাঁরা বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার ব্যাঙ্কে থাকা টাকা লুট করছে।
কী ভাবে হয় এই নিয়ন্ত্রণ? পুলিশ জানিয়েছে, ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে লিংকে ডট এপিকে(.apk) লেখা থাকে। এই এপিকে ফাইল একটি ফোনের নিয়ন্ত্রণ অন্য ফোনে দিয়ে দেয়। এবার অনলাইনে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানোর জন্য যে ওটিপি আসে সেই ওটিপি সরাসরি প্রতারকের মোবাইলে চলে আসে যা দিয়ে তারা টাকা তুলে নেয়। কিন্তু, কী ভাবে পেনশন ভোগীদের তথ্য যাচ্ছে সাইবার প্রতারকদের কাছে তা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। সাম্প্রতিককালে সিবিআই ডিজিটাল অ্যারেস্ট কাণ্ডে একটি বেসরকারি সংস্থার বড় আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে। যে তথ্য সরবরাহ করত। শিল্পাঞ্চলেও সেরকম কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের পরামর্শ, ব্যাঙ্ক কখনও এভাবে গ্রাহককে ফোন করে লিংক পাঠিয়ে লাইফ সার্টিফিকেট জমা করতে বলে না।
শিল্পাঞ্চলে বহু সংখ্যাক লোক এই প্রতারণার শিকার হলেও ঠিক কতগুলি অভিযোগ পুলিশ পেয়েছে এবং কত লক্ষ টাকা লুট হয়েছে, তা এখনও জানাতে চায়নি পুলিশ।