ইসলামাবাদ: প্রায় দু’দিন পর, অবশেষে বালোচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) কবল থেকে হাইজ্যাক হওয়া ট্রেন জাফর এক্সপ্রেসের পণবন্দি সমস্ত যাত্রীকে মুক্ত করল পাক সেনা। পাক সেনার ডিজি (জনসংযোগ) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বুধবার রাতে একথা জানিয়েছেন। বিদ্রোহীদের গুলিতে নিহত ২১ জন যাত্রীও। সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, ৩৪৬ জন পণবন্দিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৩ বিদ্রোহী খতম হয়েছে। পাশাপাশি, ৪ জন সেনারও মৃত্যু হয়েছে এই অভিযানে ।
মঙ্গলবার থেকে ‘জাফর এক্সপ্রেস’ অভিযানে কার্যত নাকানিচোবানি খেতে হয় পাক সেনাকে। কারণ, পণবন্দিদের মধ্যে মিশে ছিল বিএলএ-র আত্মঘাতী স্কোয়াড মজিদ ব্রিগেডের সদস্যরাও। বুধবার বিকেলেই পাকিস্তানি বাহিনী দাবি করে, হাইজ্যাক হওয়া ট্রেন থেকে ১৯০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জন বিদ্রোহীর। যদিও সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন যাত্রীদেরই একাংশ। তাঁরা জানান, বালোচ লিবারেশন আর্মিই মুক্তি দিয়েছে তাঁদের।
শুরু থেকেই স্থল ও আকাশপথে বালোচ বিদ্রোহীদের বাগে আনার চেষ্টা চালায় পাক সেনা। শীর্ষ এক আধিকারিকের দাবি, বহু মহিলা ও শিশুকে ওই ট্রেনে বন্দি করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গেই বিস্ফোরক বোঝাই জ্যাকেট পরে মিশে ছিল আত্মঘাতী মানব-বোমা। সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল বিদ্রোহীরা। ফলে যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে অপারেশন চালাতে গিয়ে পদে পদে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। যদিও রাতেই সরকারিভাবে অপারেশন শেষ হওয়ার কথা জানায় ইসলামাবাদ। এনিয়ে ডিজি বলেন, ‘আফগানিস্তানে বসে থাকা মাস্টারমাইন্ডের সঙ্গে স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ রাখছিল বিদ্রোহীরা। সেখানেই যাবতীয় নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। যদিও, শেষপর্যন্ত ওদের কোনও পরিকল্পনাই সফল হয়নি।’
কিন্তু, কীভাবে জাফর এক্সপ্রেস দখল নিল বালোচ বিদ্রোহীরা? কীভাবে তারা রেললাইন ওড়াল? মঙ্গলবার থেকে এরকম হাজারো প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, রুক্ষ পাহাড়ি পথের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে ৯ বগির জাফর এক্সপ্রেস। গন্তব্য পেশোয়ার। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইঞ্জিনের পরের একটি কামরার কাছে বিস্ফোরণ হয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারদিক। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ট্রেনটি বেলাইন হয়ে যায়। সেই সময় পাশের একটি পাহাড়ের উপরে বালোচ বিদ্রোহীদের বসে থাকতেও দেখা গিয়েছে। বুধবার দুপুরে ‘গিদ্রোশিয়ান বালোচ’ নামে একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। তাতে আরও দেখা যাচ্ছে, বেলাইন হয়ে যাওয়া ট্রেনের পাশে বহু মানুষকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আশপাশে ঘুরছে সশস্ত্র লোকজন।