Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টানা চার রাত ডিউটি, বিশ্রামের সময় কমানোর প্রতিবাদে অনশনে ট্রেনের চালক ও সহকারীরা

কর্মী সংকটের জেরে টানা চার রাত ডিউটি করতে হচ্ছে। বিশ্রামের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে রামপুরহাট জংশনে অনশনে বসলেন লোকো রার্নিং স্টাফরা।

টানা চার রাত ডিউটি, বিশ্রামের সময় কমানোর প্রতিবাদে অনশনে ট্রেনের চালক ও সহকারীরা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কর্মী সংকটের জেরে টানা চার রাত ডিউটি করতে হচ্ছে। বিশ্রামের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে রামপুরহাট জংশনে অনশনে বসলেন লোকো রার্নিং স্টাফরা। রেলের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ তুলছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, লোকো রার্নিং স্টাফদের উপর কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত পরিণতিতেই একের পর এক রেল দুর্ঘটনা ঘটছে। 

Advertisement

ভারতীয় রেলে প্রচুর শূন্যপদে কর্মী নিয়োগ হচ্ছে না। ‘সেফটি’ ক্যাটাগরিতেও বহু পদ ফাঁকা থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। তার মাশুল দিতে হচ্ছে রেলকর্মীদের। চাররাত গাড়ি চালিয়ে বিশ্রামে থাকা মালগাড়ির চালককে মধ্যরাতে রানিং রুমের বিছানা থেকে তুলে হাতে ধরানো হয়েছে ডিউটি স্লিপ। রেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকে রামপুরহাট জংশন ঢোকার মুখে টানা ৪৮ঘণ্টা অনশন কর্মসূচিতে বসেছেন লোকো রানিং স্টাফরা। অল ইন্ডিয়া লোকো রার্নিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েনের ব্যানারে তাঁরা ডিউটি চালু রেখে রোটেশন অনুযায়ী আন্দোলনে নেমেছেন।  
রেলকর্মীদের স্পষ্ট অভিযোগ, রেলের রানিং স্টাফ অর্থাৎ চালক ও সহকারী চালকরা কতক্ষণ ডিউটি করবেন তার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কর্ণাটক ক্যাট বা সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল ও বেঙ্গালুরু হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, একজন চালক দিনে সর্বোচ্চ ১০ঘণ্টা ডিউটি করবেন। মালগাড়ি থেকে এক্সপ্রেস ট্রেন চালানোর দু’টি ডিউটির মাঝে কমপক্ষে ১৬ঘণ্টা বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে চালকদের। একইসঙ্গে সাপ্তাহিক ৩০ঘণ্টা বিশ্রামের ব্যবস্থা করবে রেলমন্ত্রক। কিন্তু রেল প্রশাসন তা দিচ্ছে না। রেল কর্মচারীদের উপর কাজের বোঝা বাড়ছে।
অল ইন্ডিয়া লোকো রার্নিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ররেলের সাধারণ সম্পাদক জেকে মণ্ডল বলেন, বর্তমানে মালগাড়িতে ১৫-১৬ঘণ্টা, মেল ও এক্সপ্রেসে ৮-১০ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে। সেইসঙ্গে টানা দু’রাত ডিউটি করার কথা। কিন্তু বর্তমানে পরপর চার রাত ডিউটি করতে হচ্ছে। অথচ বিশ্রামের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। আমাদের উপর মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা দরকার। কিন্তু প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে বা ঘটার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। রেল প্রশাসন অমানবিক অত্যাচার করছে। আমাদের দাবি, মালগাড়িতে ৮ঘণ্টা ও মেল-এক্সপ্রেসে ৬ ঘণ্টা ডিউটি দেওয়া হোক। সেইসঙ্গে টানা দু’রাত ডিউটি দেওয়া হোক। যাতে আমরা সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারি। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না। রার্নিং স্টাফদের আরও ২৫ শতাংশ ভাতা বৃদ্ধি হওয়ার কথা। কিন্তু তা এখনও হয়নি। 
সংগঠনের সদস্যরা বলেন, এফএসডি বা ফগ সেভ ডিভাইস নামে জিপিএস মেশিন লাগানো হয়েছে ট্রেনে। সেখানে একটি স্টেশন থেকে অপর স্টেশনের দূরত্ব, সিগন্যাল কতদূরে এসব জানান দেবে। কিন্তু সিগন্যাল লাল, হলুদ না সবুজ আছে তা বলবে না। সেটা আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সেই সিস্টেম যাতে চালু হয় সেব্যাপারে রেলবোর্ডকে জানানো হয়েছে। এতে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও দৃঢ় হবে। আমাদের দাবি মানা না হলে আগামীদিনে আরও বড়সড় আন্দোলনে নামব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ