দিল্লিতে ট্রেন-মেট্রো সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না, কড়া সুপ্রিম কোর্ট
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘মাছি মারার জন্য আপনারা হাতুড়ি ব্যবহার করতে পারেন না!’ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানী দিল্লিতে মেট্রো ও রেলওয়ে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগপ্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে গণপরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ সাধারণ বাসিন্দাকে ভোগান্তিতে ফেলা যায় না। তাই কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, গণপরিবহণ ব্যবহারে লাগাম টানা যাবে না। ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। 

Advertisement

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে প্রতিবাদের অধিকার সকলের রয়েছে, কিন্তু তা আইন মেনেই করতে হবে।’ আদালতের বক্তব্য, ‘ভারসাম্য বজার রাখার জন্য আমাদের দু’টি পক্ষের প্রয়োজন। এক, এমন নাগরিক যাঁরা নিজেদের মৌলিক অধিকার চান আর দুই, সেই গোষ্ঠী যারা প্রতিবাদ করতে চায়। কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ আমাদের সামনে উপস্থিত নেই। তাই যাত্রীদের যাতে কোনো অসুবিধার মধ্যে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মেট্রো ও অন্যান্য ট্রেন নিয়ন্ত্রিভাবে চালানোর বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংশোধিত নির্দেশিকা নিয়ে প্রশাসনকে ব্যাপক প্রচারও চালাতে হবে।’
সিজেপির কর্মসূচির জন্য দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে এদিন থেকেই। বিক্ষোভের ভয়ে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, শিয়ালদহ-হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেস সহ ৪০টিরও বেশি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনও বাতিল শুক্র ও শনিবার। সরকারি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি আদালতে বলেন, ‘সব ট্রেন বাতিল। মেট্রো স্টেশন বন্ধ। আপনি কোথাও যেতে পারবেন না। আমার দেশে এটা কী হচ্ছে? একটা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই তো হবে।’সেওয়াল-জবাব শেষে শীর্ষ আদালত বলে, ‘আয়োজন বা বিক্ষোভকারীদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন নই। গ্রেটার নয়ডা বা দক্ষিণ দিল্লি থেকে যাতায়াতকারী লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই বিধিনিষেধের ফলে এমন সব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যাদের সঙ্গে বিক্ষোভের কোনো সম্পর্কই নেই।’ দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)-এর নির্দেশিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, ডিএমআরসির নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ট্রেনের সংখ্যা কমানো হবে এবং শুক্রবার রাত ৯টা থেকে স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হবে। কিন্তু বন্ধ 
রাখা শব্দটির সঙ্গে ট্রেনের সংখ্যা কমানোর সামঞ্জস্য নেই। ট্রেনের 
সংখ্যা কমানো হল এক ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা, আর বন্ধ রাখার অর্থ পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা। 
চাপের মুখে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অবশ্য জানান, ট্রেন-মেট্রো 
বন্ধ রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে রাত পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্য মেলেনি।