কোচবিহারের কাঠামিয়া মন্দিরে দুর্গার সামনে আজও মোষ বলির রীতি অক্ষুণ্ণ
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: কোচবিহার মদনমোহন বাড়ির কাঠামিয়া মন্দিরে দেবী দুর্গাকে আজও মোষ বলি দিয়ে উৎসর্গ করা হয়। দেওয়া হয় পাঁঠা বলিও। রাজ আমলের প্রথা অক্ষুণ্ণ রেখে ভোগে দেওয়া হয় মিষ্টি, অন্ন, রুইমাছ। মাকে উৎসর্গ করা হয় বলির অবশিষ্টাংশ। বংশ পরম্পরায় কয়েক পুরুষ ধরে মদনমোহন মন্দিরের পুজো করে আসছেন হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তিনিই বর্তমান রাজ পুরোহিত। হীরেন্দ্রনাথবাবু বলেন, বড়োদেবীর মতো কাঠামিয়া মন্দিরে আট প্রহরের দুর্গাপুজো হয় না। কাঠামিয়া মন্দিরে ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় পুজো করে মাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রাচীন রীতি মেনে অষ্টমীর সকালে এখনে পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজ আমলের নিয়ম অনুসরণ করে এখানে মোষ বলিরও প্রথা রয়েছে। বেলা ১২টার আগেই বলির সমস্ত কাজ সম্পন্ন করে ফেলতে হয়। কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ আজ থেকে প্রায় ১৪০ বছর আগে মদনমোহন মন্দির নির্মাণ করেন। ধরে নেওয়া হয় সেই সময় থেকেই এখানকার কাঠামিয়া মন্দিরে দেবী দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। রাজ আমলে কাঠামিয়া মন্দিরের রাজকীয় জাঁকজমক ছিল। অসম এবং ওপার বাংলা থেকে ভক্তরা আসতেন এই পুজো দেখতে। বর্তমান সময়ে ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনেও জাঁকজমকপূর্ণ পুজো হয় ঠিকই, কিন্তু রাজকীয় আয়োজন সেই অর্থে আর নেই বললেই চলে। তবে নিয়ম এবং নিষ্ঠায় আজও ভাটা পড়েনি। রাজ আমলের শতাব্দী প্রাচীন ছোটোবড়ো প্রত্যেকটা নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে আজও পালন করা হয়। ষষ্ঠীর সন্ধ্যা থেকেই ভক্তদের ভিড় এখানে উপচে পড়ে। আজও দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসে মদনমোহন বাড়ির কাঠামিয়া মন্দিরের পুজো দেখতে। 

Advertisement

রাজ পুরোহিত জানান, কাঠামিয়া মন্দিরে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীতে মা দুর্গাকে অন্নভোগ দেওয় হয়। ভোগের সঙ্গেই বলির অবশিষ্টাংশ মাকে নিবেদন করা হয়। এখানে মায়ের ভোগে আঁশযুক্ত মাছ লাগবেই। তাই মাংসের সঙ্গে মাকে দেওয়া হয় গোটা রুই। বড়োদেবীর মতো কাঠামিয়া মন্দিরেও সকাল ৯টার মধ্যে মায়ের ঘট বিসর্জন দেওয়ার প্রথা রয়েছে।