নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পৌষমেলায় স্টল বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। বিগত বছরগুলিতে স্টল বণ্টনে ভূরিভূরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এবছর যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আর্জি জানালেন ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।
বৃহস্পতিবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পৌষমেলা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বভারতী ও মেলার আয়োজক শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে মেলা করার ব্যাপারে সকলেই সহমত হন। শুক্রবার মেলার মাঠ পরিদর্শনে যান বিশ্বভারতীর আধিকারিকরা। ছিলেন শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোণার। তবে, মেলায় স্টল বণ্টনে দুর্নীতি যাতে না হয়, সেব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আগাম দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘স্টল বণ্টন নিয়ে কোনও রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। স্টল বণ্টন অনলাইনে হবে। পুরো স্বচ্ছভাবেই হবে। তাই দুর্নীতির কোনও জায়গাই নেই।’ বোলপুরের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুনীল সিং বলেন, গত বছর অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হলেও পরবর্তীতে পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অফলাইনে কালোবাজারি হয়েছে। একই স্টল ২-৩ জন ব্যবসায়ীকে দিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। সেইসঙ্গে ১৫০ বর্গফুটের জায়গার দাম নিয়ে ১৫০ ফুটের দাম নেওয়া হয়েছে। সেসব যাতে এবছর না হয়, সেই ব্যাপারেই কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা আর্জি জানাচ্ছি।
এবছর পৌষমেলা শুরু হচ্ছে ৭ পৌষ অর্থাৎ ২৩ ডিসেম্বর। পরিবেশ আদালতের গাইডলাইন মেনে মেলা হবে ছ’দিনেরই। মেলা বর্ধিত করার কোনওরকম কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। ছ’দিন শেষ হতেই বন্ধ করে দেওয়া হবে মেলার মাঠের প্রবেশদ্বার। দু’দিনের মধ্যে পরিষ্কার করে দেওয়া হবে মেলার মাঠ। তবে, মেলার শুরুর আগের দিন ২২ ডিসেম্বর মেলার দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে।