নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর জিএসটি কমানোর ঘোষণায় স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। পুজোর আগে স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরাও। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পে জিএসএটি কমে যাওয়ায় পুজোর বাজারে জোয়ার আসবে বলেই আশা তাঁদের। ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই সস্তা হতে চলেছে নিত্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিস সহ জামাকাপড়ও। মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে যেভাবে পুজোর বাজার শুরু হয়েছে তাতে এমনিতেই আশায় বুক বাঁধছিলেন ব্যবসায়ীরা। এবার জিএসটি কমানোর ঘোষণায় বাজারে জোয়ার আসবে বলেই মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।
পাশাপাশি চারটি স্ল্যাবের বদলে মূলত দু’টি স্ল্যাবে জিএসটি চালু হবে। পাঁচ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ জিএসটির আওতায় আসবে অধিকাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। কিছু কিছুতে আবার জিএসটি শূন্য হবে। ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ জিএসটি পাকাপাকিভাবে তুলে দেওয়া হল। এর ফলে অধিকাংশ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে জিএসটি ৫ অথবা ১৮ শতাংশ হবে। কিছু জিনিসে তা শূন্যে নেমে আসবে।
ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শেখরচাঁদ মারোঠি বলেন, জিএসটি কমলে সবসময়ে আমাদের লাভ। জামাকাপড়ের দাম কমলে লোকজন বেশি কিনবে। এর ফলে বাজারে অর্থ আসবে। পুজোর বাজার এমনিই ভালো থাকে। এবার শেষ মুহূর্তে তা আরও চাঙ্গা হবে। এতদিন জিএসটি বেশি থাকার ফলে অনেক ছোটব্যবসায়ী তা ফাঁকি দিতেন। সরকার জিএসটি ছাড় দেওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীরাও জিএসটির আওতায় আসবেন। তাতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।
ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, জিএসটি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। জিএসটি স্ল্যাবের পরিবর্তন হওয়ায় কাপড়জামার অনেকটাই দাম কমবে। জুতোর দামও কমবে। বাজারে স্বাভাবিকভাবে চাহিদা তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের কিনতে সুবিধা হবে। ফলে বাজার চাঙ্গা হবে বলেই আমরা আশাবাদী। কান্দির বাসিন্দা রাজশ্রী দত্ত বলেন, জামা কাপড় এবং সাজ পোশাকের উপর জিএসটি কমায় আমাদের সুবিধা হবে। পুজোর বেশকিছু জিনিস কিনেছি। আরও অনেক কিছু কেনা বাকি। এখন আর বাজার যাব না। মহালয়ার পরেই বাজারে গিয়ে বাকি জিনিসগুলো কিনব।
বহরমপুরের বাসিন্দা শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিনিয়ত জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। এবার এই জিএসটি ছাড় দেওয়ায় আমজনতার কিছুটা সুবিধা হবে। মানুষের কিছুটা অর্থ বাঁচবে। তারা সঞ্চয়ের দিকেও ঝুঁকবেন। সামনে পুজো, তার আগে জামাকাপড়ের দাম কমলে মানুষের খুবই উপকার হবে।