Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শহরের মূল বাজার ভাঙার আশঙ্কা ক্ষোভ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের

এনিয়ে পুরসভার কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়

শহরের মূল বাজার ভাঙার আশঙ্কা ক্ষোভ ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: সত্যিই কি ঘাটাল শহরের মূল বাজার এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের পরিকল্পনা রয়েছে? তা নিয়ে বৃহস্পতিবার শহরের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে জানতে গিয়ে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়লেন। এনিয়ে পুরসভার কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা জানিয়েছেন, ঘাটাল শহরের মূল বাজারের কিছুটা অংশ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য নেওয়া হবে বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু, তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও নকশা বা ম্যাপ নেই। তাই এবিষয়ে তিনি সঠিক করে কিছু বলতে পারেননি।

Advertisement

ঘাটাল শহরের প্রাণকেন্দ্র মূল বাজার ধ্বংসের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই বাজার ঘাটালের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তবে প্রশাসনের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নদী থেকে বাজারের ভিতর পর্যন্ত প্রায় ১২০ ফুট জায়গা ছেড়ে দিতে হবে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক দোকানঘর ও বসতবাড়ি ভাঙতে হতে পারে।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণনগর থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দুধের বাঁধ হাইস্কুল পর্যন্ত নদীর পশ্চিম তীরে   গার্ডওয়াল নির্মাণের জন্য ৬০ ফুট জায়গা প্রয়োজন। তার পাশাপাশি রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য আরও ৬০ ফুট সংযোজন করা হবে। সেজন্য মোট ১২০ ফুট জায়গা ছাড়তে হবে হবে। এতে শহরের মূল বাজারটি পুরোপুরি ভাঙা পড়বে। সেচদপ্তরের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম হাজরা জানিয়েছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রথম ধাপেই এই কাজ করা হবে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হয়নি।
এই আশঙ্কা থেকেই গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ঘাটাল শহরের গঙ্গাতলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী জমায়েত করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। ইতিমধ্যে তাঁরা ঘাটালের মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারের হিসাবে যেখানে সাড়ে তিন হাজার ঘর ভাঙার কথা বলা হচ্ছে। বাস্তবে তা প্রায় ৬০০০ হতে পারে। ঘাটালের মূল বাজারে দেড়শোর বেশি সোনার দোকান সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধুমাত্র ঘাটাল নয়, মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, আরামবাগ, বাঁকুড়া, জয়রামবাটি সহ বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বাজার ভাঙা পড়লে ব্যবসায়ী, কর্মচারী, মুটে, ভ্যানচালক, সব্জি বিক্রেতারা বেকার হয়ে পড়বেন।
প্রশাসন নতুন বাজার তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা মনে করেন, ১-১২ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষদের রক্ষা করার জন্য এই পরিকল্পনা হলেও, তাঁদের জীবিকার উপর এই মাস্টার প্ল্যান বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ব্যবসায়ী তাপস দালাল, অংশুমান রানা, কৌশিক দত্ত প্রমুখ বলেন, ঘাটাল বাজার ভেঙে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করার কথা শোনার পর থেকেই আমাদের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। এর আগে মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি জানিয়েছিলেন, চেয়ারম্যানের কাছে কতটা জায়গা নেওয়া হবে তার নকশা রয়েছে।  সঠিক পরিকল্পনাটা কী তা আমরা চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। ব্যবসায়ী ও স্থায়ী বাসিন্দারা জানান, আমরা কোনওভাবেই বাজার এলাকা ভাঙতে দেব না। চেয়ারম্যান বলেন, আগামী দিনে বাজারের অংশ ভাঙা নিয়ে শুধু আমি নয়, পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলারই ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে সওয়াল করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ