নয়াদিল্লি: ভারতে উত্পাদন ক্ষেত্র ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্প এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে। তাই এখন ভারত নিজের শর্তেই শক্তিশালী অবস্থান থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে। পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় বাজেট, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে এই সাক্ষাত্কারকেই বেছে নিলেন মোদি। তিনি জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই ভারত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে পেয়েছে। যার ফলে দিল্লি অন্তত ৩৮টি দেশের সঙ্গে নিজস্ব শর্তে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের বস্ত্র, চামড়া, রাসায়নিক, হস্তশিল্প, রত্ন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের এমএসএমইগুলির বাজার সম্প্রসারণের কথা মাথায় রেখেই এই বাণিজ্য চুক্তিগুলির রূপরেখা ঠিক করা হয়েছে। ভারত ‘নাউ অর নেভার’ যুগ থেকে ‘এখনই সময়’ যুগে প্রবেশ করেছে।
কিছুদিন আগেই সংসদে বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই বাজেটকে ‘দিশাহীন’ বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। কিন্তু সেই বাজেটের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিকাঠামো, শক্তি, প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বৃদ্ধি আরও দ্রুত করতে এবারের বাজেটে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। বাজেটে যে সব প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তাতে উত্পাদন খরচ কমবে। এতে বড়ো ইঞ্জিনিয়ারিং ও নির্মাণ সংস্থাগুলির পাশাপাশি দেশীয় সংস্থাগুলিও উপকৃত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘ভারত এখন উন্নত দেশ হতে চায়। আর এই বাজেট দেখিয়ে দিয়েছে আমরা তার জন্য তৈরি।’ এদিনের সাক্ষাত্কারে আগের ইউপিএ সরকারেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, গত সরকার অর্থনীতিকে ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। এর ফলে বিশ্বমঞ্চে ভারত শক্তিশালী অবস্থান থেকে কোনো কিছু নিয়ে দর কষাকষি করতে পারত না। ফলে, বহু চুক্তি ভারতের হাতছাড়া হয়েছে।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশ এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী জানেন এবারের বাজেট ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। বাজারও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা প্রভাবিত হননি। তাই তিনি এখন সাক্ষাত্কার দিচ্ছেন। তাতে যথারীতি কিছু চমক দেওয়া কথা রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো অর্থ নেই। জয়রাম আরও লিখেছেন, বাণিজ্য চুক্তিতে আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণের পর এখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রিয় কৌশল অবলম্বন করেছেন। লক্ষ লক্ষ কৃষকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এখন মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।
বেসরকারি সংস্থাগুলির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, শুধু মুনাফার কথা না ভেবে গবেষণা-উন্নয়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পণ্যের গুণমান বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়লে, বেশি মুনাফা এলে, তা শ্রমিকদের মধ্যেও ন্যায্যভাবে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন মোদি। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতে সাহসী বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্তিশালী করে তুলতে পারলেই আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব বিকশিত ভারত গড়ার দিকে।’