নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলের কাল্লার হরিপদ হাইস্কুলের অদূরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গিয়েছিল কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রমা তেওয়ারির। আসানসোলে কীভাবে দিনে-দুপুরে ট্রাক্টররাজ চলছে, গত সোমবারের ঘটনায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পরও আসানসোলের প্রাণকেন্দ্র ভগৎ সিং মোড়েই নম্বরপ্লেটবিহীন ট্রাক্টরের দাপাদাপি দেখা গিয়েছে। রুদ্ধশ্বাসে সেই ট্রাক্টরগুলি পথচারীদের গা-ঘেঁষে ছুটে চলেছে। অথচ শহরের দাপুটে পুলিসকর্তারা সেসব দেখেও দেখেন না। শহরের বুকে ট্রাক্টরগুলি একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটালেও কেন লাগাম টানা যাচ্ছে না? এনিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে। এমনকী, যেখানে পুলিস ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফে’র অনুষ্ঠান করছে, সেখানেও নাম-নম্বরপ্লেটবিহীন ট্রাক্টর চলাচলের ছবি দেখা গিয়েছে।
শুধু ট্রাক্টরের দাপাদাপি-ই নয়, জিটি রোড় ও জাতীয় সড়কে রাস্তাজুড়ে পণ্যবাহী গাড়ি সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। তাতে সাধারণ মানুষের বিপত্তি বেড়েই চলেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আসানসোল দক্ষিণ থানার দক্ষিণ পুলিস ফাঁড়ির অন্তর্গত ফতেপুর মোড় থেকে সাতাইশা মোড় পর্যন্ত এলাকায়। বরাচকে রেলের সাইডিংয়ে গাড়ি লোড করে জিটি রোডের উপর যেন ‘বিশ্রাম’ নেন চালকরা। এর জেরে পথচলতি মানুষ রাস্তার একপাশ দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বাড়ছে।
ডেপুটি পুলিস কমিশনার(ট্রাফিক) ভিজি সতীশ পশুমূর্তি বলেন, যেসব ট্রাক্টর দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেগুলির বিরুদ্ধে আমরা মামলা রুজু করছি। নম্বরপ্লেটবিহীন ট্রাক্টর নজরে পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বহু বছর ধরেই এই রীতি চলে আসছে। আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।
কিছুদিন আগেই আসানসোল-বার্নপুর রাস্তায় অত্যন্ত দ্রুতগতির একটি ট্রাক্টর উল্টোদিক থেকে আসা চারচাকা গাড়ির উপরে উঠে যায়। ট্রাক্টরটি একজন বাইক আরোহীকেও ধাক্কা মারে। জুবলি মোড়, কাল্লা মোড় থেকে ভগৎ সিং মোড়, ট্রাক্টর-বিভ্রাট লেগেই থাকে। শহরবাসীর অভিযোগ, ট্রাক্টর চালকরা কার্যত বাদশাহি মেজাজ নিয়ে রাস্তায় নামে। যেন রাস্তা দিয়ে চলাচলের জন্য প্রভাবশালীদের পকেট ভরিয়েছে। কোনওরকম নিয়মনীতির বালাই নেই। অনেক সময় ট্রাক্টরে হেড লাইটই থাকে না। আর ইন্ডিকেটরের প্রত্যাশা করাই ভুল। যখন যেদিকে খুশি স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে দেয়। একদিকে ট্রাক্টরের ইঞ্জিন যাচ্ছে, তো অন্যদিকে ডালা। এইভাবে ট্রাক্টরগুলি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। দুর্ঘটনায় ছাত্রীর মৃত্যুর পর অনেকেই আশা করেছিলেন অবস্থার বদল হবে। কিন্তু মৃত্যুর দু’দিনের মধ্যেই ফের আগের অবস্থা নজরে পড়ছে। শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হল ভগৎ সিং মোড়। এখানে যানজট এতটাই বেশি থাকে যে, একবার রেড সিগন্যালে আটকে পড়লে সবুজ আলোর জন্য চার মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। এমন ব্যস্ত মোড়েও পুলিসকর্তাদের চোখের সামনে দিয়ে সেই ট্রাক্টরগুলি দিব্যি ডালা নাচিয়ে চলে যায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাইকের নথির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলেই মোটা টাকা ফাইন কাটা হয়। তাহলে নম্বরপ্লেটবিহীন ট্রাক্টরের ফাইন কোন খাতে জমা হয়?-নিজস্ব চিত্র