নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গলা ব্যাথার উপসর্গ নিয়ে ভরতি হয়েছিলেন রোগী। অবশেষে মিলল সাপে কাটার নমুনা। তড়িঘড়ি নাক, কান, গলা বিভাগ থেকে রোগীকে স্থানান্তর করা হয় সরাসরি এইচডিইউ বিভাগে। প্রতিষেধক দেওয়ার পর আপাতত অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন ২৪ বছরের ওই যুবক। তাতে স্বস্তি ফিরেছে পরিবার ও চিকিৎসকদের। ঘটনা আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের।
আরামবাগ মেডিকেলের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, সম্ভবত কালাচ সাপের কামড়েই অসুস্থ হন ওই রোগী। তিনি নিজে সাপটি দেখেননি। ফলে বুঝতেও পারেননি। ওই যুবক গলা ব্যাথার উপসর্গ নিয়ে জরুরি বিভাগে ভরতি হন। সাপ দেখে থাকলেও তার মতো চিকিৎসা প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারত। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন সুযোগ পাওয়া যায়নি। অবশেষে রুটিন রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক রাউন্ড দিতে গিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর রোগীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনিও প্রথমে অসম্মতি জানান। তারপর বুঝিয়ে তা দেওয়া হয়। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের সন্ধিপুর এলাকার বাসিন্দা বছর চব্বিশের ওই যুবক বর্তমানে মেডিকেলেই ভরতি রয়েছেন। তিনি পূর্ব বর্ধমানে একটি রাইস মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। সেখানে থাকাকালীন দিন কয়েক আগে রাতে ঘুমোনোর সময় আচমকা অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। গলা ব্যথা হতে থাকে। সেখান থেকে তাঁকে আরামবাগে নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার ভরতি করা হয় আরামবাগ মেডিকেল কলেজে।
রোগীর বউদি বলেন, গলা ব্যথা হচ্ছিল। সঙ্গে লালা ঝরছিল। কথা বলতে পারছিল না। সেই অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসক নাক, কানা, গলা বিভাগে ভরতি করে নেন। পরে সাপে কাটার বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা চিকিৎসা করায় দেওর এখন অনেকটাই সুস্থ।
আরামবাগ মেডিকেলের নাক, কান, গলা বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ওই রোগী আমাদের বিভাগে ভরতি হওয়ার পর দেখেই সন্দেহ হয়। সেইমতো দ্রুত এইচডিইউ বিভাগে শয্যার ব্যবস্থা করে ভরতি নেওয়া হয়। সাপে কামড়ানোর জন্য ব্যবহৃত ৩০ ভায়েল প্রতিষেধকও দেওয়া হয় ওই রোগীকে।