অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: দেশে প্রথম কলকাতাতেই আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড তৈরি করেছিল অ্যান্টি স্নেক ভেনাম। প্রায় ২০ বছর ধরে বন্ধ সেই উৎপাদন। এরাজ্যে আর তৈরি হয় না। দু’দশক পর কলকাতায় ফের অ্যান্টি স্নেক ভেনাম তৈরি করতে উদ্যোগী হল শতাব্দী প্রাচীন এই সংস্থা। প্রাথমিকভাবে ১৫০ কোটি টাকার প্রজেক্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।
১৮৯২ সালে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বেঙ্গল কেমিক্যালস ওয়ার্ক স্থাপন করেছিলেন। ১৯০১ সাল থেকে বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালসের পথ চলা শুরু। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই সংস্থা যুদ্ধের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সামগ্রী তৎকালীন সরকারকে সরবরাহ করেছিল। কোয়ালিটি এবং অথেন্টিসিটির নিরিখে এত বছরে জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছে বেঙ্গল কেমিক্যালস। মানিকতলা মেইন রোডের ধারে বেঙ্গল কেমিক্যালসেই দেশের মধ্যে প্রথম অ্যান্টি স্নেক ভেনাম তৈরি হয়েছিল। সেখানে ঘোড়ার একটি আস্তাবলও ছিল।
এ রাজ্যে চন্দ্রবোড়া, কালাচ, গোখরো, কেউটে প্রভৃতি সাপের কামড়ে প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয়। অনেকের প্রাণেরক্ষা পেলেও অঙ্গহানি ঘটে। সারা জীবন সেই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হয়। বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত থেকে অ্যান্টি ভেনাম আমদানি করা হয়। সর্প বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘এ রাজ্যের বিষধর সাপ থেকে অ্যান্টি ভেনাম তৈরি হলে তা বেশি কার্যকর হবে।’
সল্টলেকে সিএসআইআরের ‘আরআইএসই’ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে বেঙ্গল কেমিক্যালসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রীকুমার ঘোষ চৌধুরী অ্যান্টি
স্নেক ভেনাম তৈরির উদ্যোগের বিষয়টি জানান। সেখানেই ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
বেঙ্গল কেমিক্যালসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রীকুমার ঘোষ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা অ্যান্টি স্নেক ভেনাম তৈরি করতে ইচ্ছুক, সে কথা জানিয়েছি। প্রিলিমিনারি প্রজেক্ট প্রপোজাল করা হয়েছে। রাজ্য সরকার জমি দিলে আমরা অন্য জায়গায়ও এই কাজ করতে পারি। তা না হলে মানিকতলাতেই প্লান্ট বসাতে হবে। ঘোড়ারও দরকার। আমরা রাজ্যের সঙ্গে কথা বলছি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। সরকার কী সিদ্ধান্ত নেবে, পরবর্তী সময়ে জানাব।’ কোন সাপে কামড়েছে, তা চিহ্নিত করার জন্য ‘মনসা বায়োটেক’ নামে একটি স্টার্ট-আপ সংস্থার কর্ণধার সৌরভ রায় মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই কাজে এবার আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার হবে। সেই সঙ্গে একটি স্নেক বাইট কিটও ডেভেলপ করার চেষ্টা চলছে।’