সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: সিজার পরিষেবা বন্ধের ধাক্কা এখনও কাটেনি। তারমধ্যেই এবার অস্ত্রোপচার পরিষেবাতেও ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে তৈরি হয়েছে অনিশ্চিয়তা। মাত্র ছ’মাস আগে নিয়োগ পাওয়া ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে সম্প্রতি অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তাঁদের জায়গায় এখনও কোনো বিকল্প চিকিৎসক যোগ না দেওয়ায় বর্তমানে ১১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়েই চলছে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল। ফলে অর্থোপেডিক, জেনারেল সার্জারি, ইএনটি এবং অ্যানাস্থেশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে থাকা ১১ জন বিশেষজ্ঞের মধ্যে তিন জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, তিন জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, দু’জন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, দু’জন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং একজন প্যাথোলজিস্ট রয়েছেন। অর্থোপেডিক, জেনারেল সার্জারি, ইএনটি এবং অ্যানাস্থেশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অ্যানাস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবে প্রসূতিদের সিজারিয়ান পরিষেবা আগেই ধাক্কা খেয়েছে। প্রায় এক মাস হতে চললেও সেই পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এবার অর্থোপেডিক ও জেনারেল সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক ঘাটতি তৈরি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগীদের অন্যত্র রেফার করতে হতে পারে। তাতে ধূপগুড়ি-সহ ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাশাপাশি হাসপাতালের নিয়মিত পরিষেবার বড় অংশের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে সীমিত সংখ্যক মেডিকেল অফিসারকে। বর্তমানে তিন জন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার এবং একজন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের চিকিৎসক রয়েছেন। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ও অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক থাকলেও প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে তাঁদের পক্ষে নিয়মিত রোগী দেখা সম্ভব হয় না। ফলে বহির্বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই ওই চিকিৎসকদের বদলি করা হয়েছে। যেহেতু চিকিৎসকরা বদলি হয়ে গিয়েছেন, তাই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে দ্রুত বিকল্প চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।