সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: শীত পড়তেই জেলায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। তাতে পুরুলিয়ার ব্যবসায়ীদের লক্ষ্মীলাভের সম্ভাবনাও বেড়েছে। কিন্তু বাধ সেধেছে রেল। ভরা পর্যটন মরশুমে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশন ফের সপ্তাহ ব্যাপী রোলিং ব্লক নিয়েছে। যার ফলে ডিভিশনে বেশ কিছু ট্রেনের চলাচলে প্রভাব পড়তে চলেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্র্যাক মেশিন, সিগন্যাল ও টেলি কমিউনিকেশন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ডিভিশনে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে। তাই আজ, সোমবার থেকে আগামী রবিবার ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হবে। যাত্রীদের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, তাই রেল আগাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে। প্রতিটি রেল স্টেশনে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তবে মাসের পর মাস ট্রেন বন্ধের ফলে হয়রানিতে সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬৮০৪৬/৬৮০৪৫ (আসানসোল-আদ্রা) মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির ২ এবং ৭ ডিসেম্বর চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৮০৫৪/৬৮০৫৩ (আদ্রা-বরাভূম) মেমু প্যাসেঞ্জার এবং ৬৩৫৯৪/৬৩৫৯৩ (আসানসোল-পুরুলিয়া) মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলি ৭ ডিসেম্বর চলাচল করবে না। পাশাপাশি কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৮০১৯/১৮০২০ (ঝাড়গ্রাম-ধানবাদ) মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ১ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বোকারো স্টিল সিটি স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করবে। ওই দিনগুলিতে ট্রেনটির বাকি অংশে চলাচল বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, ১৩৫০৩ /১৩৫০৪ (বর্ধমান-হাঁটিয়া) মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ১ থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোমো পর্যন্ত চলাচল করবে। ৬৮০৫৬/৬৮০৬০ (টাটা-আসানসোল-বরাভূম) মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি ২ ডিসেম্বর আদ্রা স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করবে। এছাড়া, ১৮৬০১ টাটা-হাতিয়া এক্সপ্রেস ৩ ডিসেম্বর ঘুর পথে চালানো হবে।
যাত্রীদের মধ্যে অমল চক্রবর্তী, পার্থপ্রতিম ফৌজদার বলেন, রেল পরিষেবার জন্য আদ্রা-আসানসোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। তবে বর্তমানে এই শাখায় ট্রেন চলাচল সবচেয়ে জঘন্য। বিগত দুই দশক ধরে শাখায় একটিও নতুন লোকাল ট্রেন চালু হয়নি। অন্যদিকে যে ক’টি ট্রেন চলাচল করে তার মধ্যে বেশিরভাগ ট্রেন বাতিল থাকে। আবার সময় মতো ট্রেন চলাচল স্বপ্নেও ভাবা যায় না। বড়ন্তি, পঞ্চকোট এলাকার কয়েকটি গেস্ট হাউসের মালিক বলেন, অনেক পর্যটক আসানসোল, বর্ধমান থেকে ট্রেনে মুরাডি, রামকানালী, মধুকুণ্ডা স্টেশনে নামতেন। সেখান থেকে টোটো, অটো ভাড়া করে পর্যটন কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে আসতেন। কিন্তু গত দুই বছর হল ট্রেন পরিষেবা ঠিক না থাকায় আসানসোল থেকে সরাসরি পর্যটকরা চার চাকা ভাড়া করে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে আসছে। রেল পরিষেবার জন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড় কমছে। বেশি টাকা খরচের জন্য অনেক পর্যটক আসছেন না।
আদ্রা ডিভিশনের এক রেল আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিটি ডিভিশনে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্লক নেওয়া হয়। যাত্রী সুরক্ষা এবং রেল পরিষেবা সচল রাখার জন্যই কাজ করা হয়। তাই ব্লক নেওয়া হলেও কম সংখ্যক ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।