অনিমেষ মণ্ডল, আউশগ্রাম: শীতের মরশুম শুরু হতেই একদিনের ছোট্ট ভ্রমণে আউশগ্রামের ভাল্কি মাচানে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়ছে। মাচানকে কেন্দ্র করে আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলিও দেখে নিতে পারেন পর্যটকরা। আপনি যদি অরণ্যে বেড়াতে ভালোবাসেন, তাহলে সপ্তাহ শেষে একদিনের ভ্রমণ তালিকায় আউশগ্রামের ভাল্কি মাচানের নাম রাখতেই হবে। শাল পিয়ালের নির্জন অরণ্যে বসে নানা রকম পাখিরডাক শুনলে সবারই মন ভালো হয়ে যায়। বিশেষ করে স্বল্প শীতে ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা হিসাবে ভাল্কি মাচানকে অনেকেই বেছে নেন।
ভাল্কির জঙ্গলে খরগোশ, শিয়াল, হায়না, নেকড়ের দেখাও মেলে। তাছাড়া শান্ত জঙ্গল ঘেরা এই রিসর্টে গ্রাম্য পরিবেশে থাকতে অনেকেই পছন্দ করেন৷ আর আশপাশের জমিদার বাড়ি, জলটুঙ্গি, নানা টেরাকোটা মন্দির দর্শনে এখন পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে এই এলাকায়। ভাল্কির অরন্যসুন্দরী রিসর্ট্র মোট সাতটি ঘর ও একটি ডরমেটরি রুম রয়েছে।এখন থেকেই পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হচ্ছে জঙ্গল মহল।
এখানে বর্ধমান রাজার জলটুঙ্গি আলাদা অনুভূতি আনে। ডোকরার কাজ দেখে পর্যটকদের মন ভালো হয়ে যাচ্ছে। ডোকরার নানা সামগ্রী কেনাকাটাও করছেন পর্যটকরা। শুধু কি তাই, ভাল্কিতে রাত্রিবাস করলে আপনি ঘুরে আসতে পারেন কাঁকসার ইছাই ঘোষের দেউল। এছাড়া ফেরার পথে কালিকাপুর রাজবাড়ি একটা দর্শনীয় স্থান। পুরনো সাত মহলা জমিদার বাড়ি, বাঁধানো ঘাটের পুকুর, টেরাকোটার জোড়া মন্দির পর্যটকদের মন টানছে। মাচানের খাওয়াদাওয়াও বেশ ঘরোয়া। পুকুরের দেশি রুই, কাতলা থেকে দেশি মুরগি পর্যটকদের কাছে এক্কেবারে লা জবাব।
ভোরের দিকে জঙ্গলে এখন শিউলিরা খেজুর গুড় তৈরির ছোটো, ছোটো তাঁবু ফেলেছেন। সেখানে গিয়ে পর্যটকরা খেজুরের রসের স্বাদ নিচ্ছেন৷ বিকালে আউশগ্রামের বননবগ্রামের বাউল আশ্রমে বাউল গান শুনে মোহিত হতে পারেন। ওয়ারিশপুরে কাঁথাস্টিচের কাজও দেখতে যাচ্ছেন বহু পর্যটক। ওয়ারিশপুরের কাঁথাস্টিচ শিল্পী বুল্টি বেগম, তাহমিনা বেগমরা বলেন, পর্যটকরা এখন থেকেই আসতে শুরু করেছেন। তাঁরা কেনাকাটাও করছেন।
আউশগ্রামের ভাল্কি মাচানে পর্যটনের মরশুম শুরু হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বেশ স্বস্তিতে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, সারা বছর আমরা পর্যটনের মরশুমের দিকে তাকিয়ে থাকি এখানে। তবে নভেম্বর, ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত ভাল্কি মাচানে বেশ ভিড় হয়ে থাকে। ভাল্কি মাচানের ম্যানেজার ওঙ্কার ঘোষের কথায়,কলকাতা থেকেএসে টেরাকোটার নানা সামগ্রী কেনাকাটাও করছেন অনেকেই। রবিবার কলকাতার বেহালার পর্নশ্রী থেকে ভাল্কি মাচানে বেড়াতে আসা রাজশ্রী মুখোপাধ্যায় বলেন, রিসর্টটা খুব সুন্দর। এটির সংস্কার করে এই পর্যটন কেন্দ্রকে আরও সাজিয়ে তোলার দাবি তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাঁরা বলছেন, এটাকে ঘিরেই অনেক মানুষের জীবন, জীবিকা নির্ভর করে। তাই রিসর্ট সেজে উঠলে আরও পর্যটক মুখর হবে এই এলাকা।