সংবাদদাতা, লালবাগ: পুজোর মরশুম শুরু হতেই সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদের পর্যটনস্থলগুলিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম, ওয়াসিফ মঞ্জিল, কাটরা মসজিদ, কাঠগোলাপ বাগান, মোতিঝিল সহ অন্য দর্শনীয় স্থানগুলি পর্যটকদের ভিড়ে একেবারে গমগম করছে। শহরের বেশ কিছু হোটেলের অধিকাংশ ঘর দীপাবলি পর্যন্ত বুকড। জানা গিয়েছে, পঞ্চমী থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত গড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পর্যটক রোজ মুর্শিদাবাদমুখী হচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ছবি জেলার পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলির মুখের হাসি চওড়া করবে।
পরিস্থিতি যেদিকে এগচ্ছে তাতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, শীতে দেখবেন পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়বে মুর্শিদাবাদে। মোতিঝিলের কর্মী সিরাজুল হোসেনের কথায়, পুজো থেকেই ভালো ভিড় হচ্ছে মুর্শিদাবাদে। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ হাজার টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
নবাবের শহরের পর্যটনের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত কয়েক হাজার পরিবারের রুজিরুটি নির্ভর করে। শহরের এক হোটেল ব্যবসায়ী স্বপন দাস বলেন, পঞ্চমী থেকে অধিকাংশ ঘর বুকড। দীপাবলি পর্যন্ত ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি শীতের মরশুমে ঘরের জন্য পর্যটকরা এখন থেকেই ফোন করছেন।
লালবাগের টাঙা ইউনিয়নের সম্পাদক মনু শেখ বলেন, মার্চে শীতের মরশুম শেষ হতেই এখানকার পর্যটন ব্যবসায় মন্দা শুরু হয়। ফলে টাঙা চালকদের চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন গুজরান করতে হয়। আবার পুজোর মরশুম শুরু হতেই পর্যটকরা ফের মুর্শিদাবাদমুখী হতেই পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। এবার তো পুজো থেকে টানা দর্শনীয়স্থানগুলিতে ভিড় হচ্ছে। শীতের মরশুমেও ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা রাখছি।
কাটরা মসজিদের সামনে ঘর সাজানোর দোকান মোশারফ আলির। তিনি বলেন, এবছর পুজোর আগে থেকে ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলা হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, প্রত্যাশামতো পুজোর মরশুমে পর্যটকদের ভালো ভিড় হচ্ছে। প্রতিদিন ট্রেনের পাশাপাশি বাস ও ছোট গাড়িতে পর্যটকরা আসছেন। মূলত পুজোর মধ্য দিয়ে শীতের মরশুমের ঘণ্টাও বেজে যায়।