সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: টাটকা খেজুর গুড়ের টানে ভিনজেলা তো বটেই, ভিনরাজ্যের পর্যটকরাও ঝাড়গ্রামে ভিড় করছেন। তাঁদের চাহিদা মেটাতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খেজুর গুড়ের ভাটি বসছে। কোথাও ১২০টি, কোথাও আবার ৮০-৯০টি খেজুরের গাছ পরিষ্কার করে চেঁছে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করছেন ভিনজেলার শিউলিরা।
লোধাশুলিতে জাতীয় সড়কের পাশে, সাঁকরাইলের ধানঘোরি, ঝাড়গ্রাম শহরের ১৮নম্বর ওয়ার্ড লাগোয়া দুবরাজপুর ও ধরমপুর গ্রামের পাশে খেজুর গুড়ের ভাটি বসেছে। সড়কের পাশে বসায় পর্যটকরা গাড়িতে যাতায়াতের সময়ই খেজুরের রস ও গুড় কিনতে পারছেন। অন্যবছরের মতো এবারও নদীয়া জেলার দেবগ্রাম থেকে তিনজন শিউলি ধরমপুরে খেজুরপাতার ঝুপড়ি বেঁধে গুড় তৈরি করছেন। প্রতিবছরই শীতের শুরু থেকে মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪পরগনা, নদীয়া ও বাঁকুড়া জেলা থেকে ঝাড়গ্রামে কয়েকশো শিউলি আসেন। তিনমাস ধরে খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে মাঘমাসের মাঝামাঝি সময়ে তাঁরা বাড়ি ফিরে যান। এই সময়কালে তাঁদের মোটা অঙ্কের টাকা রোজগার হয়। ঝাড়গ্রামের অনেক বাসিন্দাই পৌষপরবের জন্য গুড় সংগ্রহ করে রাখেন। কয়েকবছর ধরে গুড়ের দাম একই রয়েছে। নলেন গুড় ১০০ টাকা কেজি ও পাটালি গুড় ১২০টাকা কেজি দামে পাওয়া যায়। বড় একগ্লাস খেজুরের রসের দাম ১০ টাকা।
এদিন ধরমপুরে একটি গুড়ের ভাটিতে গিয়ে দেখা গেল, মালদহ থেকে আসা বেশ কয়েকজন পর্যটক নলেন গুড় কিনছেন। তাঁদের একজন বলেন, প্রতিবছর শীতের সময় ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসে খেজুর গুড় নিয়ে যাই। ধরমপুর ভাটির এক শিউলি বলেন, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, ওড়িশা থেকে আসা পর্যটকরা আমাদের বেশিরভাগ গুড় কিনে নিয়ে যান। ভোরবেলা রস বিক্রি করা হয়। ঠান্ডা যত পড়বে, তত বেশি খেজুরের রস সংগ্রহ হয়।
ধরমপুর গ্রামের বাসিন্দা মনোজ মাহাত বলেন, শিউলিরা ১০-১২বছর ধরে এখানে এসে খেজুরের রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। বেশিরভাগ গুড় পর্যটকরাই কিনে নিয়ে যান। এবছর কংসাবতীর ক্যানেলের পাড় সংস্কারের জন্য বহু খেজুর গাছ কাটা পড়েছে। পাড়েই বেশিরভাগ খেজুরগাছ ছিল। তাই এবার আমাদের এলাকায় বেশি গুড় তৈরি করা যাবে না।