সংবাদদাতা, সিউড়ি: হাতেগোনা চারটি সুলভ শৌচালয় রয়েছে। কিন্তু মন্দির চত্ত্বরে নেই কোনও শৌচালয়ের বন্দোবস্ত। এমনই ছবি বীরভূমের অন্যতম পীঠস্থান বক্রেশ্বর মন্দিরে। এই কারণেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাই এলাকায় সুলভ শৌচালয় বানানোর দাবি সেবাইতদের একাংশের। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বারবার বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের দ্বারস্থ হয়েছেন। আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ এখনও হয়নি।
জেলার অন্যতম পীঠস্থান বক্রেশ্বর। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করেছে। অথচ মন্দির চত্ত্বরে শৌচালয়ের দাবি তুলছেন সেবাইতদেরই একাংশ। কারণ বক্রেশ্বর মন্দির চত্ত্বরে সুলভ শৌচালয়ের কোনও ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। শৌচলয়ের পাশাপাশি আরও একাধিক দাবিদাওয়া রয়েছে তাঁদের।
সেবাইতদের তরফে জানা গিয়েছে, বক্রেশ্বর বাসস্ট্যাণ্ডের কাছে চারটি শৌচালয়। তার মধ্যে দু’টি পুরুষ ও দুটি মহিলাদের। অভিযোগ, সেটাও সব সময় খোলা থাকে না। এছাড়া, উষ্ণ প্রস্রবণ চত্ত্বরে শৌচালয় আছে। কিন্তু সেটি যাঁরা উষ্ণপ্রসবণে যাবেন শুধু তাঁদের জন্য। অর্থাৎ কাউকে যদি শৌচকর্মের জন্য ওখানে যেতে হয়, তাহলে তাঁকে প্রথমে ১০ টাকা দিয়ে উষ্ণ প্রসবণের টিকিট কাটতে হবে। তারপর ৫ টাকা দিয়ে ওই শৌচাগার ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ একবার শৌচাগারে যেতে প্রায় ১৫ টাকা লেগে যাবে। সেই কারণে সেখানে শৌচাগারের দাবি তুলছেন তাঁরা।
সেবাইতরা জানান, এখনই বক্রেশ্বর মন্দিরে প্রতিদিন দুই থেকে চার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় হয়। কিন্তু শীতের মরশুমে সেই সংখ্যাই বাড়ে। কারণ শীতে বাঙালির মধ্যে পিকনিক করা কিংবা ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই এই সময় ভিড় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু শৌচাগার না থাকায় বিপাকে পড়তে হয় পুণ্যার্থীদের।
মন্দিরের সেবাইত উন্নয়ন সমিতির সদস্য দেবনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের মন্দির চত্ত্বরে তো অনেক জায়গা। সেখানেই শৌচাগার বানানোর জন্য আমরা একাধিকবার বলেছি। সেই নিয়ে একাধিকবার পরিদর্শনে এসেছেন উন্নয়ন পর্ষদের সদস্যরা। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এখানে শৌচাগারের অত্যন্ত প্রয়োজন।
একই কথা বলছেন আরেক সদস্য গৌতম আচার্য্য। গৌতমবাবু বলেন, অনেক দাবিদাওয়া আছে। তবে শৌচাগারটা খুব প্রয়োজন। কারণ এখানে প্রচুর মানুষ বেরাতে আসেন।
বক্রেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় চৌধুরী, বক্রেশ্বর মন্দির নতুন করে সাজানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই শৌচাগারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।