সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বিদ্যাসাগরের জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠনে মনীষীদের জন্মদিনকে নিছক ছুটির দিন হিসাবে না দেখার আবেদন জানালেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে শিলিগুড়ি কলেজের বাংলা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শংকর ঘোষ আক্ষেপের সুরে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ‘দিবস’ পালন অনেক ক্ষেত্রেই রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। দিবস পালনের মূল ভাবনা ও উদ্দেশ্য ভুলে সেটিকে শুধুমাত্র ছুটির দিন হিসাবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো মনীষীর জন্মদিনকে শুধুমাত্র ছুটির দিন হিসাবে দেখা উচিত নয়। সেই মনীষীর চিন্তা, আদর্শ ও কাজের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের কতটা প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, বাংলায় নতুন কৃতী সন্তান তৈরি করতে আমরা কতটা সক্ষম হয়েছি, তা নিয়েও আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন। নিজের জমি ও মাটি থেকে যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, তাঁদের অস্তিত্বই এক সময় সংকটের মুখে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বহুত্ববাদী সমাজের সামনে যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার কারণও খুঁজে দেখা দরকার।
শংকর ঘোষের বক্তব্য, শিলিগুড়িতে কোনো কোনো মনীষীর নামে থাকা স্কুলগুলি শুধু শোভাযাত্রা করেই দায়িত্ব সারছে। পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ও ইতিহাসকে নতুন করে সামনে আনতে হবে। শিশুমন থেকে যে চর্চা ও বার্তা দেওয়া হয়, সেই অনুযায়ীই একটি শিশু গড়ে ওঠে। তাই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা ভাবা দরকার।
শিলিগুড়ি কলেজের উন্নয়নে ভবিষ্যতে তাঁর তরফে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কলেজটি আগামী দিনে একটি ব্যতিক্রমী জায়গা করে নেবে। প্রাচ্যের গৌরবকে সামনে আনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে তার অর্থ পাশ্চাত্যের বিরোধিতা করা নয়। পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের জীবন, কর্ম ও শিক্ষাভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।