সংবাদদাতা, বোলপুর: সিউড়ি, রামপুরহাটের পর এবার বোলপুর শহরেও জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে টোটো চলাচলের নিয়ম চালু করতে চলেছে পুরসভা। যানজট নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার পুরসভার উদ্যোগে প্রশাসনিক বৈঠক হয়। বৈঠকে চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক, জয়েন্ট বিডিও, ট্রাফিক ওসি, সমস্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও পুরসভার আধিকারিকরা। পুরসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০জুলাই থেকে শহরে জোড় ও বিজোড় নম্বরযুক্ত টোটো আলাদা সময়ে চলবে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো ও দুপুর ২টো থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দু’টি ভাগে ভাগ করে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। তবে রাত ১০টার পর কোনও বিধিনিষেধ থাকবে না।
বোলপুর শহরে টোটোর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শহরজুড়ে ক্রমাগত যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে পুরসভা। এর আগে কিউআর কোডভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। যেখানে সমস্ত টোটোচালকের নাম, ঠিকানা, নম্বর সহ যাবতীয় তথ্য থাকবে। এই কিউআর কোড স্ক্যান করলেই যাত্রীরা চালকের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। শহরের কোনও টোটো যাতে রাস্তার ডানদিকে যাত্রী না তোলে তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। শহরে ১০ হাজারের বেশি টোটো চলাচল করলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৮৮৫জন চালক রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে নিয়ম কার্যকরে পুরসভা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। রামপুরহাটে এই পদ্ধতি চালু থাকলেও ইতিমধ্যেই সেখানে চালকদের বিরুদ্ধে নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে। তাই বোলপুরেও এনিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গতবছর আগস্ট মাস থেকেই টোটো নিয়ন্ত্রণে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করেছিল পুরসভা। কিউআর কোড ছাড়া টোটো চালানোর অনুমতি নেই বলে চালকদের জানানো হয়েছিল। কারণ, পর্যটনের শহর শান্তিনিকেতনে টোটো চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি, অবাধে পুরসভা এলাকার বাইরের টোটো চলাচলের কারণে শহরে ভিড় বাড়ছিল বলেও নজরে এসেছিল। তার প্রেক্ষিতেই পুরসভা গতবছর কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেয়। কিন্তু, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে শহরবাসীর অভিযোগ। পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহণ হল টোটো। অনেক বেকার যুবক টোটো চালিয়ে রোজগার করেন। কিন্তু শহরের যানজট সমস্যার সমাধানে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাই কর্মসংস্থান হোক, কিন্তু তা শৃঙ্খলা ভেঙে নয়।