সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: গভীর রাতে ট্রেন থেকে নেমে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে একাধিক সময় দিতে হচ্ছে ১০ গুণেরও বেশি টোটো ভাড়া। ট্রেন থেকে নেমে শহরের মধ্যেই হোটেলে পৌঁছাতে পর্যটককে প্রায় ৪০০ টাকা রেস্ত খসাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। গভীর রাতে টোটোর যথেচ্ছ ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি টোটো চালকদের একাংশ মদ্যপ অবস্থাতেও থাকেন বলে অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পুরুলিয়া শহরে টোটোর যথেচ্ছ ভাড়া নিয়ে অভিযোগ জানান হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারীরা। শহরের এক হোটেল মালিক জানান, সম্প্রতি এক মহিলা পর্যটকের কাছে পুরুলিয়া স্টেশন থেকে শহরের এক হোটেলে পৌঁছাতে ৪০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়। ওই যাত্রী সেই ভাড়াই টোটোচালককে দিতে বাধ্য হন। তবে শুধু ওই একটি ঘটনাই নয়, রাতে পুরুলিয়া শহরে নামার পর পর্যটকদের একাংশকে টোটোতে করে হোটেলে পৌঁছাতে গিয়ে এমনই উদ্ভট সব ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। পর্যটকরা তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ। হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের এক পদাধিকারী পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের জানান, মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি রাতে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অনেকেই মদ্যপ অবস্থাতেই টোটো চালাচ্ছেন। মদ্যপ অবস্থায় টোটো চালানোর ফলে পর্যটকদের সঙ্গেও মাঝে মধ্যেই ঝামেলা লাগছে। বৈঠকে হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকরা। সেইসঙ্গে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানানোর কথাও বলা হয়। তবে শুধু হোটেল মালিক ও পর্যটকরাই নন, গভীর রাতে পুরুলিয়া শহরের টোটোতে যাতায়াতের জন্য কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে শহরের অনেকেরই। কোনও কোনও চালক আবার বাধ্য করেন টোটো রিজার্ভ করে যাওয়ার জন্য। ফলে শুধুমাত্র কয়েক কিলোমিটার যেতেই ট্রেন ভাড়ার কাছাকাছি টাকা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।



