সংবাদদাতা, করিমপুর: কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কে যানজট রুখতে পুলিস বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তবুও যানজট থেকে মুক্তি মিলছে না করিমপুরবাসীর। তার মূল কারণ টোটোর দৌরাত্ম্য। দিন দিন বেড়েই চলেছে টোটোর সংখ্যা। তার জেরে রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পুলিস প্রশাসন গত কয়েক দিনে টোটোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। নিয়ম না মানলেই টোটো আটক করা হচ্ছে। তারপরেও কমেনি টোটোর দৌরাত্ম্য। স্থানীয় বাসিন্দারা এই যানজট থেকে মুক্তি চাইছেন।
তেহট্টের এসডিপিও শুভতোষ সরকার বলেন, ওই রাজ্য সড়কে যানজট রুখতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এলাকার টোটোগুলিকে একমুখী রাস্তায় চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেশকিছু জায়গায় নো-পার্কিং জোন করা হয়েছে। তারপরেও কিছু টোটো নিয়মের তোয়াক্কা করছে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
করিমপুরের একমাত্র রাজ্য সড়কে যানজট আটকাতে গত জুলাই মাসে টোটো চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জারি করেছিল পুলিস। সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল, করিমপুর বাজারের কয়েকটি রাস্তায় একমুখী টোটো চলবে। নতিডাঙা মোড় থেকে বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার সময় প্রত্যেক টোটো থানার সামনের রাস্তায় যাবে। আর ফেরার সময় প্রধান সড়কে আসবে। তবে মুর্শিদাবাদ থেকে কোনও টোটো আসবে না। তেমনই এখানকার কোনও টোটো ওই জেলায় যাবে না। বাজারের কিছু এলাকায় ‘নো পার্কিং’ বোর্ডও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তারপরেও হাল ফেরেনি। যানজটে জেরবার হচ্ছেন মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টোটোর কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই। এমনকী টোটো চালকদের কোনও প্রশিক্ষণও হয় না। ফলে কতগুলি টোটো চলছে, প্রশাসনের কাছে তার কোনও পরিসংখ্যান নেই। প্রশিক্ষণ না থাকলেও আট থেকে আশি বছর বয়সি সকলেই টোটো চালায়। টোটোর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চালকদের মধ্যে যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা থাকে। রাস্তায় চলতে চলতে যাত্রী দেখলেই তারা যেকোনও জায়গায় আচমকা দাঁড়িয়ে যায়। টোটোর পিছনে কে আছে চালকরা দেখে না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পকেট রুটে চললেও, রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে।
করিমপুরের বাসিন্দা বিমল বিশ্বাস বলেন, টোটো আসার পর থেকে মানুষের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে। বাড়ির সামনে থেকে অল্প দূরত্বে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে টোটোর বিকল্প নেই। কিন্তু, রাস্তায় যাত্রীর চেয়ে টোটোর সংখ্যা এখন বেড়ে গিয়েছে। ফলে রাস্তায় চলাচল করা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে কিছু একটা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
করিমপুরের টোটো চালক কানাইলাল সরকার বলেন, বর্তমানে টোটোর উপর কয়েক হাজার মানুষের সংসার নির্ভর করছে। করিমপুরের স্থানীয় প্রায় ৪০০ টোটো আছে। আশপাশের এলাকা, এমনকী মুর্শিদাবাদ থেকেও প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টোটো করিমপুরে আসে। ফলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বাইরের টোটোর বিষয়টি প্রশাসন দেখুক। করিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিস আধিকারিক সিকন্দর আলম বলেন, আইন না মানলে টোটো চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যানজট রুখতে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।