সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি এক আত্মীয়কে দেখতে বর্ধমান থেকে ট্রেনে এসেছিলেন শৈলেন মণ্ডল। কিন্তু রামপুরহাট স্টেশনে নেমে মেডিক্যাল যাওয়ার জন্য টোটো ধরতে গিয়ে তাঁর চোখ কপালে উঠল। টোটোচালক ভাড়া হাঁকলেন ৫০টাকা! শৈলেনবাবু বলেন, অন্যসময়ে টোটোয় যেটুকু পথ যেতে ১০টাকা ভাড়া লাগে, রাতে তার চারগুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
শুধু স্টেশনেই নয়, ছোট্ট রামপুরহাট শহরের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতেও রাতে অনেকসময় বেশি ভাড়া চাওয়া হয়। অভিযোগ, রাত যত বাড়ে, টোটোর ভাড়াও তত বেড়ে যায়। টোটোর লাগামছাড়া ভাড়া নিয়ে শহরে ক্ষোভ বাড়ছে। এনিয়ে রামপুরহাট পুরসভার পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত মাহারা বলেন, এবিষয়ে পুরসভায় দু’একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। চেয়ারম্যান বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।
পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে কমপক্ষে ১০হাজার টোটো চলাচল করে। যাত্রীদের অভিযোগ, সাধারণত শহরের ভিতরে যে কোনও জায়গার ভাড়া ১০টাকা। কিন্তু রামপুরহাট স্টেশন থেকে বাসস্ট্যান্ড বা মেডিক্যাল থেকে নিশ্চিন্তপুর ও লোকোপাড়ার মতো বেশ কিছু এলাকায় যেতে দিনেই ২০-৩০টাকা অবধি ভাড়া দিতে হচ্ছে। রাতে সেই ভাড়া আরও বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের শুনতে হয় ‘ওটাই ভাড়া’ গোছের কথা।
শহরের বাসিন্দা নিবেদিতা দাস বলেন, বহিরাগত যাত্রী দেখলেই ১০টাকা ভাড়ার দূরত্ব যেতে টোটোচালকরা ২০টাকা অবধি চাইছেন। এছাড়া, সন্ধ্যা গড়ালেই টোটোভাড়া বেড়ে যায়। বৃষ্টির দিনেও একই পরিস্থিতি দেখা দেয়। তখন সুযোগ বুঝে আকাশছোঁয়া ভাড়া হাঁকেন চালকরা। রুট বা ভাড়ার তালিকা নির্দিষ্ট না হওয়ায় প্রায়শই যাত্রীদের সঙ্গে টোটোচালকদের বচসা বাঁধে। এর জেরে নিত্যযাত্রীরা সমস্যায় পড়েছেন।
এবিষয়ে আইএনটিটিইউসি নেতা স্বপন সর্দার বলেন, আমাদের কাছে এমন বহু অভিযোগ এসেছে। বোলপুরের সাংসদ অসিত মালের পিএ কমল বিশ্বাসও এমন অভিযোগ করেছেন। দিনেরবেলায় টোটোচালকরা নিয়ম মেনেই চলাচল করেন। রাতের দিকে কিছু টোটোচালক ইচ্ছেমতো ভাড়া দাবি করেন। ওঁরা আমাদের ইউনিয়নভুক্ত নয়। তবু বিষয়টি দেখা হবে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি ওঁদের নিয়ে আলোচনায় বসব।