Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ থেকে তিনদিনের ধর্মঘট টোটোচালকদের

একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে টোটো ধর্মঘটের ডাক দিলেন সিউড়ি ও আশপাশের এলাকার চালকরা। আজ, সোমবার থেকে তিনদিন সিউড়ি ও আশপাশের এলাকায় টোটো চলাচল বন্ধ থাকবে।

আজ থেকে তিনদিনের ধর্মঘট টোটোচালকদের
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে টোটো ধর্মঘটের ডাক দিলেন সিউড়ি ও আশপাশের এলাকার চালকরা। আজ, সোমবার থেকে তিনদিন সিউড়ি ও আশপাশের এলাকায় টোটো চলাচল বন্ধ থাকবে। শহরবাসীর দাবি, এভাবে হঠাৎ করে টোটো চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সকলকে দুর্ভোগে পড়তে হবে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের পরিবহণ দপ্তরের তরফে টোটোর রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে টোটো চালকরা সেই সম্পর্কিত নির্দিষ্ট নথি পেয়ে যাবেন। ফলে, বেআইনি টোটোর তকমা থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু সেই টোটো রেজিস্ট্রেশন নিয়েই তৈরি হচ্ছে জটিলতা। সিউড়ি শহরের টোটো চালকরা জানান, ‘অ্যাসেম্বল’ করা টোটোর রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ সরকারিভাবে ১৬৪৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। আর ই-রিকশর রেজিস্ট্রেশন ফি করা হয়েছে প্রায় ৩১০০ টাকা। কিন্তু অভিযোগ, ই-রিকশর রেজিস্ট্রেশন করাতে গেলে শোরুমে ইচ্ছেমতো টাকা চাওয়া হচ্ছে। চালকদের দাবি, ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা অবধি চাওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টোটো চালকদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
পুরসভা ও টোটো চালকদের তরফে জানা গিয়েছে, সিউড়ি শহরে সবমিলিয়ে প্রায় ৩৩০০টি অ্যাসেম্বল টোটো ও ই-রিকশ রয়েছে। তার মধ্যে দু’হাজারের বেশি ই-রিকশ রয়েছে। চালকদের আরও দাবি, অ্যাসেম্বল করা টোটোগুলি রেজিস্ট্রেশন করানোর দু’বছর পর বাতিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সময়সীমাও তাঁরা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। টোটো চালকদের তরফে চঞ্চল খান বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই রেজিস্ট্রেশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখন আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু সেই সুযোগ নিয়ে শোরুমগুলি নিজেদের ইচ্ছেমতো টাকা চাইছে। এছাড়া, আমাদের অনেকের অ্যাসেম্বল করা টোটো রয়েছে। সেগুলি এখনও প্রায় আট থেকে দশ বছর হেসেখেলে চলবে। তাই আমরা ওই সময়সীমা দু’বছরের পরিবর্তে আরও বেশি বাড়ানোর দাবি তুলেছি।
তবে, হঠাৎ করে টোটো ধর্মঘটের জেরে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা করেছেন সিউড়িবাসী। তাঁদের দাবি, সিউড়ি শহরে যে কোনও জায়গায় যেতে হলে টোটোই এখন একমাত্র ভরসা। শহরে চলাচল করা টোটোর সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি। সেই কারণে শহরে যানজট লেগেই থাকে। কিন্তু হঠাৎ ধর্মঘটের জেরে টোটো চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষকে বিপাকে পড়তে হবে। শহরের বাসিন্দা অঙ্কিতা চক্রবর্তী, মধুরিমা দাসরা বলেন, সিউড়িতে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা কেবল টোটো। শহরের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষ টোটোর উপরেই নির্ভর করে। কিন্তু সপ্তাহের প্রথমদিনেই যদি টোটো ধর্মঘট থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে।
এপ্রসঙ্গে সিউড়ির তৃণমূল পরিচালিত টোটো ইউনিয়নের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমরা ধর্মঘট সমর্থন করি না। কিন্তু টোটো চালকদের সঙ্গে যেটা হচ্ছে, সেটাও ঠিক নয়। তাই ওঁরা ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই কথা বলেছেন টোটো ইউনিয়নের সম্পাদক শেখ রাজা। তিনি বলেন, আমরা বলেছি যেন কোনও অশান্তি না হয়। আর কোনও জরুরি ক্ষেত্রে যেন টোটো পরিষেবা দেওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ