Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টোটোর দৌরাত্ম্য, বিপাকে রোগীর পরিবার ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টোটো চালকরা। ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে শিশু ওয়ার্ডের সামনের এলাকায় তাঁদের অবাধ যাতায়াত।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টোটোর দৌরাত্ম্য, বিপাকে রোগীর পরিবার ও অ্যাম্বুলেন্স চালকরা
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন টোটো চালকরা। ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে শিশু ওয়ার্ডের সামনের এলাকায় তাঁদের অবাধ যাতায়াত। রাস্তাজুড়ে টোটো থাকায় স্ট্রেচারে করে রোগীদের এক জায়গা থেকে অন্য বিভাগে নিয়ে যেতে বেগ পেতে হচ্ছে। রাস্তা থেকে সরতে বলা হলে রোগীর আত্মীয়দের চোখ রাঙানি দেখতে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সও আটকে যাচ্ছে। টোটো চালকদের ভূমিকায় রোগীর পরিজনরা ক্ষুব্ধ থাকলেও তাঁদের কিছুই করার নেই। মুখ বুজে চালকদের ‘দাদাগিরি’ সহ্য করতে হয়। মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, প্রায়ই পুলিশ টোটো চালকদের সরিয়ে দেয়। আগে অনেক বেশি সংখ্যক টোটো হাসপাতালের ভিতরে ঢুকতো। এখন সংখ্যাটা কম। তবে, তাঁদেরও ঢোকা বন্ধ করা হবে।

Advertisement

বর্ধমান হাসপাতালে মামার চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বীরভূমের মুরারইয়ের জাহাঙ্গির শেখ। তিনি বলেন, অনেক সময় টোটো চালকরা ধাক্কা দিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁরা মারমুখী হয়ে উঠছেন। এত সাহস তাঁরা কোথা থেকে পাচ্ছেন, কে জানে। প্রশাসনের উচিত এব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া। আরএক রোগীর আত্মীয় শর্মিষ্ঠা চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে সবসময় ভিড় লেগে রয়েছে। তারপর আবার টোটোর দৌরাত্ম্য রয়েছে। অনেক সময় রোগীদের পরীক্ষা করানোর জন্য স্ট্রেচারে করে অন্য বিভাগে নিয়ে যেতে হয়। টোটোর কারণে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়। আট মাস আগেও একবার হাসপাতালে এসেছিলাম। তখনও একই অবস্থা দেখেছি। হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। তারপরও তাঁরা পদক্ষেপ নেন না।
টোটো চালকদের অবশ্য দাবি, তাঁরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসেন। অযথা কেউ আসেন না। এছাড়া, অনেক রোগীকে অনাময় হাসপাতালে রেফার করা হয়। তখনও অনেকেই টোটোয় চেপে যান। সেসময় কেউ কেউ ইমার্জেন্সির সামনে টোটো নিয়ে যান। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, টোটো চালকদের অনেক আগেই রুট ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। চালকদের অনেকেই নিয়ম মানছেন না। হাসপাতালের ভিতরে কোনওভাবেই টোটো নিয়ে যাওয়া যাবে না। হাসপাতালের এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, পুলিশ প্রায়ই অভিযান চালায়। টোটো চালকদের ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও অনেকে নিয়ম মানছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। স্থানীয়রা বলেন, টোটো চালকরা যাত্রী তোলার জন্য হাসপাতালের গেট আটকে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাতে যাতায়াতে সমস্যা হয়। এছাড়া, হাসপাতালের সামনে ফের খাবারের দোকান বসছে। মাঝে সেগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবার তারা ভাতের হোটেল শুরু করায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ