সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নৌকায় নেই কোনও আলো। সন্ধ্যার পর নৌকা চালাতে টর্চের আলোই ভরসা নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জ ঘাটের মধ্যে চলাচলকারী নৌকার মাঝিদের। অন্ধকার নামতেই অসুবিধায় পড়তে হয় মাঝি থেকে শুরু করে যাত্রীদের। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর দু’পারের ফেরিঘাটে জ্বালানো আলোর উপর নির্ভর করে আন্দাজে নৌকা চালান মাঝিরা। এমনকী, নৌকা পারাপারের সময় মাঝিরা মোবাইলের আলো কিংবা টর্চ জ্বালিয়ে কাজ চালান। নাহলে যাত্রীবোঝাই নৌকা যেকোনও মুহূর্তে মাঝনদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। এহেন অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী থেকে পড়ুয়াদের দাবি, অবিলম্বে নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জ এবং নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে পারাপারকারী প্রতিটি নৌকায় আলোর ব্যবস্থা করা হোক।
এপ্রসঙ্গে নবদ্বীপ জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সভাপতি শশাঙ্ক হালদার বলেন, এর আগে আমরা নৌকায় আলো লাগিয়েছিলাম। কিন্তু তা খারাপ হয়ে যেত। টর্চের আলোয় আমাদের নৌকা চলাচল করতে অসুবিধা হয় না। নির্দিষ্ট সময়ে নৌকাগুলি চলাচল করায় মাঝিদের আন্দাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে আমরা উন্নত আলো লাগানোর ব্যবস্থা করব। ইতিমধ্যে নবদ্বীপ-মায়াপুর রুটে একটি ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকায় আলো লাগানো হয়েছে। আমরা অন্যান্য নৌকাগুলিতেও ব্যাটারি চালিত আলো লাগাব। ফেরিঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নবদ্বীপ-মায়াপুর এবং নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জ ঘাটের মধ্যে নৌকা পারাপার করে। এছাড়া, হুলোরঘাট থেকে স্বরূপগঞ্জ রেলবাজার ঘাটের মধ্যেও নৌকা চলে। সকালে ভিড়ের চাপ বেশি থাকায় সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে চারটি এবং নবদ্বীপ-স্বরূপগঞ্জের মধ্যে তিনটি নৌকা চলে। তারপর থেকে নবদ্বীপ-মায়াপুরের মধ্যে তিনটি এবং স্বরূপগঞ্জ-নবদ্বীপের মধ্যে দু’টি নৌকা চলাচল করে। সন্ধ্যা ৭টার পরে ১৫মিনিট অন্তর নৌকা চলে। সকালে ও বিকেলে প্রতিদিন কয়েক হাজার নির্মাণ শ্রমিক ফেরি পারাপার করেন। তাই বেশি সংখ্যক নৌকা চালাতে হয়। উল্লেখ্য, প্রতিদিন নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং স্বরূপগঞ্জের মধ্যে কয়েক হাজার নিত্যযাত্রী ও পর্যটক ফেরি পারপার করেন। স্বরূপগঞ্জের বাসিন্দা শিক্ষক সুরজিৎ চক্রবর্তী বলেন, প্রতিদিন স্বরূপগঞ্জ ঘাট পার হয়ে নবদ্বীপে যেতে হয়। কিন্তু নৌকায় আলোর ব্যবস্থা নেই। নদীর দু’ধারের ঘাটের আলোয় দেখা গেলেও, মাঝনদীতে আলোর অভাব থেকেই যায়। এর ফলে যেকোনও মুহূর্তে অসাবধানতায় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
মাজদিয়া বেলডাঙার বাসিন্দা স্কুলছাত্রী দীপ্তি দেবনাথ বলে, প্রতিদিন নবদ্বীপে টিউশন পড়তে যাই। মাঝেমধ্যে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। নবদ্বীপ থেকে স্বরূপগঞ্জের কোনও নৌকায় আলোর ব্যবস্থা নেই। টর্চের আলোর ভরসায় মাঝিরা নৌকা চালান। ঝড়-বৃষ্টির সময় লোডশেডিং হয়ে গেলে অনেক সময় নদীর পাড় বুঝতে না পেরে নৌকা অন্যদিকে চলে যায়। তখন ভীষণ ভয় লাগে।
নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এবিষয়ে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে আগেও সচেতন করা হয়েছে। আবারও সচেতন করা হবে। যাতে উদ্যোগ নিয়ে আলো লাগানো হয়। তবে ওঁরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই চলেন। এর আগেও নৌকায় আলো লাগিয়েছিলেন। -নিজস্ব চিত্র