সংবাদদাতা, কান্দি: ক্লাস চলাকালীন প্রকৃতির ডাকে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি ছুটতে হয়। কারণ কয়েকবছর ধরে স্কুলের শৌচাগার সংস্কারের অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে সেটা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। খড়গ্রাম ব্লকের কেলাই ২ নম্বর প্রাথমিক স্কুলের এই ঘটনায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ। স্কুলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কাজ হয়নি। যদিও খড়গ্রামের বিডিও মিলনী দাস বলেন, বিষয়টি জানি। পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে ওই স্কুলে শৌচাগার তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। স্কুলের প্রধানশিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, শৌচাগারের সমস্যা নিয়ে কয়েকবার বিডিওকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। গত ৫ আগস্টও ফের একবার লিখিত আবেদন জমা করা হয়েছে। তবে এবার বিডিও শৌচাগারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮৬ সালে তৈরি হয় এই স্কুল। সেইসময় গ্রামের ভিতরে ছিল স্কুলটি। ২০০০ সালের গোড়ায় স্কুলের স্থানবদল হয়। ২০০৭-০৮ বর্ষে সেখানে তৈরি হয় নতুন ভবন। সঙ্গে শৌচাগারও। কিন্তু পরবর্তীতে ওই প্রাথমিক স্কুলের কোনও সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে কয়েকবছর আগে শৌচাগারের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়তে শুরু করে। স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মহম্মদ হামিম শেখের কথায়, প্রস্রাব পেলে স্কুলের বাইরের মাঠের করা যায়। কিন্তু পায়খানা পেলে ক্লাস ছেড়ে বাড়ি ছুটতে হয় আমাদের।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী শাহানাজ মণ্ডল, সাহিনা খাতুনরা জানায়, ছেলেদের মতো তারা স্কুলের বাইরে মাঠে কাজ সারতে পারে না। প্রকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে তাদের বাড়ি ছুটতে হয়। এমন ঘটনায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ । স্থানীয় তহিদুল শেখ, নিয়ামত শেখরা জানান, স্কুলে শৌচাগারের সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের বহুবার জানানো হয়েছে। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। স্থানীয় বাসিন্দা তথা ঝিল্লি পঞ্চায়েতের সদস্য বুলটি বেগম বলেন, প্রশাসনের কাছে স্কুলের শৌচাগারের সমস্যা নিয়ে বহুবার জানানো হয়েছে। এটা গ্রামের লজ্জা। নিজস্ব চিত্র