Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ ভাইফোঁটায় মেগাহিট কাটোয়ার পরাণের পান্তুয়া

এপার বাংলায় পান্তুয়াকে জনপ্রিয় করেছিলেন সুরেন্দ্রলাল কুণ্ডু। তাঁর ছেলে প্রাণকৃষ্ণ কুণ্ডু ওরফে পরাণ তৈরি করেছিলেন ক্ষীরের পান্তুয়া।

আজ ভাইফোঁটায় মেগাহিট কাটোয়ার পরাণের পান্তুয়া
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: এপার বাংলায় পান্তুয়াকে জনপ্রিয় করেছিলেন সুরেন্দ্রলাল কুণ্ডু। তাঁর ছেলে প্রাণকৃষ্ণ কুণ্ডু ওরফে পরাণ তৈরি করেছিলেন ক্ষীরের পান্তুয়া। সে মিষ্টি এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের রসনা পরিতৃপ্ত করে চলেছে। ভাইফোঁটার আগের দিন পরাণের পান্তুয়া কিনতে ক্রেতাদের লাইন পড়ে গিয়েছিল দোকানে। তবে এ মিষ্টির সৃষ্টি কাহিনির নেপথ্যে রয়েছে দেশভাগের যন্ত্রণা, কাঁটাতারের গল্প। 

Advertisement

দেশভাগের কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের ফরিদপুর থেকে এপার বাংলায় আসেন সুরেন্দ্রলাল কুণ্ডু। তাঁর তিন ছেলে— বলরাম, সুধীরচন্দ্র ও প্রাণকৃষ্ণ। ফরিদপুরে সুরেন্দ্রলাল কুণ্ডুর ঐতিহ্যশালী মিষ্টির দোকান ছিল। সেখানেও ক্ষীরের মুরুলি, অমৃতি আর আকারে ছোট পান্তুয়া তৈরি করতেন। সেসব মিষ্টি সুনামও কুড়িয়েছিল। বাড়িঘর, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা গুটিয়ে এপার বাংলায় এসে মনমরা হয়ে পড়েছিলেন সুরেন্দ্রলাল। ফের নতুন করে সব শুরু করতে হয়েছিল তাঁকে। কাটোয়া শহরের বারোয়ারিতলায় ছোট্ট মিষ্টির দোকান খোলেন। এখানেও সেই পুরনো মিষ্টির সম্ভার সাজিয়ে বসেন। তবে তাঁর মন ভেঙে গিয়েছিল। ব্যবসার হাল ধরেন তাঁর ছোট ছেলে প্রাণকৃষ্ণ ওরফে পরাণ। তারপর থেকে আর তাঁদের পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কাটোয়া শহরে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে ক্ষীরের পান্তুয়া। লোকের মুখে মুখে যার নতুন নামকরণ হয় ‘পরাণের পান্তুয়া’। মহানায়ক উত্তমকুমার থেকে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় অনেকেই পরাণের পান্তুয়া খেয়ে আহা উহু করেছেন। 
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি দেয় এই মিষ্টি। পরাণের পান্তুয়ার সঙ্গে কাটোয়ার বাসিন্দাদের আবেগ জড়িয়ে। বর্তমান দোকানের নামও ‘পরাণের পান্তুয়া’ নামেই চলে। ক্ষীরের এই পান্তুয়া মহানায়ক উত্তমকুমার ‘নিশিপদ্ম’ ছবির শুটিং করতে এসে খেয়েছিলেন। শুধু কি তাই, রাজ্যের তাবড় নেতামন্ত্রীও এই মিষ্টি খেয়ে সুনাম করেছিলেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই মিষ্টি রাজ্যের নানা প্রান্ত, এমনকী ছাড়াও বিদেশেও পাড়ি দিয়েছে। কাটোয়া শহরে পর্যটকরা বেড়াতে এলে এই পান্তুয়ার দোকানে ঢুঁ না মেরে কেউ যান না। ক্ষীরের এই মিষ্টির সঙ্গে দেশভাগের যন্ত্রণা জড়িয়ে। 
প্রাণকৃষ্ণবাবু ২০০০ সালে মারা যান। বর্তমানে তাঁর দুই ভাইপো তপন কুণ্ডু ও সমরেশ কুণ্ডু ব্যবসার হাল ধরেছেন। তপন কুণ্ডু বলেন, আমাদের মিষ্টি মহানায়ক উত্তমকুমার থেকে বহু নামী ব্যক্তিত্ব খেয়েছেন। বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও আমাদের মিষ্টির স্বাদ গ্রহণ করেছেন। ক্ষীরের তৈরি নোড়ার আকারে ছোট পান্তুয়া ভেজে রসে চোবানো হয়। শহরের বাসিন্দাদের কাছে ‘পরাণের পান্তুয়া’ মানেই ঐতিহ্যের মিষ্টি। ভাইফোঁটার জন্য এখন থেকেই দীর্ঘ লাইন পড়ছে ক্রেতাদের। শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানগুলিতে নানা স্বাদের মিষ্টি করে ক্রেতাদের মন জয়ের চেষ্টা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু শহরের বাসিন্দাদের সেই পরাণের পান্তুয়াতেই মন মজে রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ