সংবাদদাতা, সিউড়ি: বহু বাঙালি বাড়িতে এখনও মকর সংক্রান্তির দিন পুজোআচ্চা হয়। তৈরি হয় পিঠেপুলি। অনেকে গঙ্গাসাগরে যান পুণ্যস্নান করতে। যাঁরা পারেন না, তাঁরা গঙ্গাতেই স্নান সারেন। কিন্তু এবছর এসআইআরের চক্করে পুজোআচ্চার পাট তুলে দিয়ে অনেককেই দাঁড়াতে হবে শুনানির লাইনে। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ বাঙালি। কারণ, ওইদিনও জেলাজুড়ে চলবে শুনানি প্রক্রিয়া। অন্তত এদিনটায় শুনানি না করলেও চলত বলে দাবি করছেন সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূলও। কিন্তু প্রশাসনের কর্তাদের ব্যাখ্যা, শুনানির জন্য কোনও ছুটির দিন নেই।
সিউড়ি শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার শুনানির ডাক পড়েছে আজ। তাঁর ২০০২ সালে ভোটার তালিকার সঙ্গে নামের বানান মিলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি জানান, আমি প্রতিবছর মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাস্নানে যাই। জেলার বাইরে যেতে না পারলেও অন্তত জয়দেব কেন্দুলিতে গিয়েও পুণ্যস্নান করে আসি। কিন্তু এবছর হবে না। আগে তো এই কাজ সারতে হবে। পুণ্যস্নান আবার পরের বছরও করা যাবে। একই কথা শোনা গিয়েছে দুবরাজপুরের প্রতাপপুরের দুই মহিলার কণ্ঠে। তাঁরাও নাম প্রকাশে রাজি না হননি। তাঁরা জানান, মকর সংক্রান্তির দিন মানেই তো পিঠেপুলি উৎসব। কিন্তু এবছর আর বাড়িতে পিঠে বানাতে পারব না। কারণ, এসআইআরের শুনানির ডাক পেয়েছি। আগে নাগরিকত্ব রক্ষা করে আসি। পরে পিঠে উৎসব হবে।
গত দু’ মাস ধরে রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। বীরভূম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় ‘নো ম্যাপিং’-এর তালিকায় ছিলেন ৬৫১৭৮ জন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৪৮৬৭৯ জনের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদেরও শুনানিও খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হয়ে যাবে। এছাড়া জেলায় প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটার রয়েছেন যাদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ রয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার মকর সংক্রান্তি হলেও শুনানি চলবে। তাছাড়া ওইদিন কোনও সরকারি ছুটি নেই। স্বাভাবিকভাবেই শুনানির ডেট দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ছুটির দিনেও শুনানি হচ্ছে। বড়দিনের দিনই জেলাজুড়ে শুনানি হয়েছে। তবে মকর সংক্রান্তিতে এই শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছে শাসক দল। তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা আগেই বলেছি বিজেপি বাংলার সংস্কার মানে না। মকর সংক্রান্তিতে মানুষ গঙ্গাস্নানে যান। পিঠেপুলি উৎসব হয়। এসআইআরের জন্য এইসব ছেড়ে শুনানির লাইনে দাঁড়াবে। সত্যিই এটা অত্যন্ত নিন্দার বিষয়।