সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: কোচবিহার জেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। প্রতিবারে ভোট এলেই তামাক চাষিরা প্রত্যাশা করেন জেলায় গড়ে উঠবে তামাক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প। কিন্তু ভোট আসে ভোট যায়, এনিয়ে শাসক-বিরোধী কেউ কোনো উচ্চবাচ্য করে না। এখানকার উৎপাদিত তামাক রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ সহ উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে যায়। মধ্যস্বত্বভোগী পাইকাররা ঠিক করে বাজার দর। ফলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তামাক চাষ করে সঠিক বাজার দর পান না চাষিরা। এনিয়ে চরম ক্ষুব্ধ জেলার কয়েক লক্ষ তামাক চাষি।
চাষিদের দাবি, এখানকার উৎপাদিত তামাক যদি প্রক্রিয়াকরণ করে বাইরে পাঠানো হত তাহলে একদিকে যেমন তাতে কর্মসংস্থান তৈরি হত, তেমনই সঠিক দাম পেতেন কৃষকরা। জেলার দিনহাটা মহকুমা, মাথাভাঙা মহকুমা ও মেখলিগঞ্জ মহকুমার মূল অর্থকরী ফসলই হল তামাক। তাই তামাককে নিয়ে শিল্প চাইছেন বাসিন্দারা। মাথাভাঙা-১ ব্লকের কৃষক অজয় সরকার, শীতলকুচি ব্লকের চাষি জীবন বর্মন বলেন, জেলার তিনটি মহকুমার মূল অর্থকরী ফসল তামাক। আমরা তামাক চাষ করার পর এখানকার পাইকার সেই তামাক কিনে ভিনরাজ্য পাঠায়। পাইকাররাই ঠিক করে দেয় দাম। জেলায় যদি তামাক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠত তাহলে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান বাড়ত। সঙ্গে সঠিক দামও পেতাম আমরা। এর আগেও একাধিক নির্বাচনের সময়ে তামাক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মধ্যস্বত্বভোগী হিসাবে লাভের গুড় খেয়ে নেয় পাইকাররা। বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, জেলার দিনহাটা, সিতাই, শীতলকুচি ও মেখলিগঞ্জের সিংহভাগ চাষিই তামাক চাষ করেন। আমরা এবারে জেলায় সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে অঙ্গীকার পত্র তৈরি করব। সেখানে তামাক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার বিষয়টি থাকবে। মানুষের দাবিকে সামনে রেখেই আমরা প্রতিশ্রুতি দেব এবং তা পূরণ করব। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মনের বক্তব্য, নানা সময়ে তামাক প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। আমাদের সময়কালে বেশকিছু জায়গায় ছোট ছোট কিছু প্রক্রিয়াকরণ কারখানা হয়েছে। বড় কারখানা যাতে তৈরি হয় সেদিকে নজর রয়েছে আমাদের। এনিয়ে জেলা থেকে রাজ্যের সঙ্গে আমরা কথা বলব।