হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: বাঙালির বড় প্রিয় জায়গা পুরীর সমুদ্র সৈকত আর জগন্নাথ ধাম। আমি অনেকবার পুরী-ভুবনেশ্বর বেড়াতে গিয়েছি। কখনও দলবদ্ধভাবে বা পরিবারের সঙ্গে, কখনও বা কোনও কাজে। চন্দ্রভাগা তটে কোনারক মন্দির নিয়ে লেখার প্রয়োজনেও বেশ কয়েকবার গিয়েছি সেখানে। আজকাল যেসব জায়গায় যাই, সেখানে খুঁজে দেখার চেষ্টা করি নতুন কিছু দেখার সুযোগ মেলে কি না। যেগুলি বড় বড় দর্শনীয় স্থানের প্রচারের আলোর আড়ালে নিভৃতে নীরবে একাকী লুকিয়ে থাকে। অথচ যাঁদের স্থান মাহাত্ম্য, ঐতিহাসিক বা শিল্পগত গুরুত্ব কম নয়।
সাম্প্রতিক অতীতে দু’জন সঙ্গীর সঙ্গে পুরী ভ্রমণ ছিল নিছকই দু’দিন ছুটি কাটাবার উদ্দেশে। নানা পুরাতাত্ত্বিক শিল্পকর্ম ছড়িয়ে আছে ওড়িশা বা পুরী-ভুবনেশ্বর অঞ্চলের আনাচকানাচে। সত্যি কথা বলতে কী এতবার পুরী বা ভুবনেশ্বরে এলেও চৌষট্টি যোগিনীর মন্দিরের কথা আমি আগে শুনিনি। আমার শখের ফোটোগ্রাফার বান্ধবী ও পুরাতত্ত্ব গবেষক এক বন্ধু নানান অপরিচিত স্থানে যান নিজেদের কাজের সূত্রে। তাঁদের কাছেই আমি প্রথম জানতে পারি ওড়িশার চৌষট্টি যোগিনীর মন্দিরের কথা। তার আগে পর্যন্ত আমি ‘চৌষট্টি যোগিনী’ মন্দির বলতে জানতাম মধ্য ভারতের জব্বলপুরের মন্দিরের কথা। যা সমধিক প্রসিদ্ধ। বহু পর্যটক এমনকী বিদেশি পর্যটকরা যান সেখানে। বহু লেখালিখিও হয় জব্বলপুরের চৌষট্টি যোগিনী মন্দির নিয়ে। সৌভাগ্যবশত আমারও সে মন্দির দেখার সুযোগ ঘটেছে। তবে আমাদের ঘরের কাছেই পার্শ্ববর্তী রাজ্যে যে ভারতবর্ষের সর্ব প্রাচীন চৌষট্টি যোগিনীর মন্দির আছে, তা আমার ওই দুই বন্ধুর থেকে শোনার আগে জানা ছিল না। সে মন্দিরের অবস্থান ভুবনেশ্বর জেলার হীরাপুর গ্রামে। পুরী থেকে সড়কপথে হীরাপুরের দূরত্ব মাত্র ৫৫ কিলোমিটার। পুরী থেকে গাড়িতে পৌঁছতে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগে। বাস রুটও আছে। হীরাপুরে যেতে সময় নেয় দু’ঘণ্টার মতো। তবে বাসের ক্ষেত্রে আরও একটা সমস্যা আছে। বাস হীরাপুরে ঢোকার মুখে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। চৌষট্টি যোগিনীকে দেখতে হলে বাকি ছ’-সাত কিলোমিটার পথ স্থানীয় বাহনে যেতে হয়। অনেক সময়ই তা ধরার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
সমুদ্রের পাড়ের রাস্তা বা মেরিনড্রাইভ আমাদের থাকার জায়গা থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ। আমার সঙ্গীদের নিয়ে যখন সে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ালাম, তখন বিকাল চারটে। গ্রীষ্মের বিকাল। রোদের তেজ তখনও বেশ কড়া। সন্ধ্যায় অন্ধকার নামতে আরও ঘণ্টা দু’-আড়াই সময় লাগবে। পুরীতে অবশ্য সে অর্থে নির্দিষ্ট কোনও ট্যুরিস্ট সিজন নেই। বিশেষত বাঙালিদের কাছে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুই ট্যুরিস্ট সিজন। রাস্তায় তাই লোকজনের ভিড়ও আছে। কেউ সমুদ্র স্নান সেরে ভেজা গায়ে ফিরছে, কেউ বা আবার জগন্নাথ মন্দিরের দিকে যাচ্ছে দেব দর্শন বা ধ্বজা পরিবর্তনের আশ্চর্য দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার জন্য। রাস্তার পাশেই বেশ কয়েকটা ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের অফিস। গাড়ি ভাড়া দেয় তারা। তেমনই একটা অফিসে গিয়ে হীরাপুরের চৌষট্টি যোগিনীর মন্দির দেখতে যাব বলে গাড়ি ভাড়া চাই বলে জানালাম। ওই জায়গায় যেতে চাই শুনে লোকটা বেশ অবাক হল। তবে সে বলল, গাড়ি পাওয়া যাবে। কিন্তু ওখানে রাস্তা খারাপ, তাই ড্রাইভাররা গাড়ি নিয়ে যেতে চায় না। ভাড়া বেশি লাগবে। খানিকক্ষণ দর কষাকষির পর ভাড়া ফাইনাল হল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে একটা ছোট-চার চাকার বাহন এসে আমাদের নিয়ে রওনা হল ভুবনেশ্বরের চৌষট্টি যোগিনীর মন্দিরের উদ্দেশে। ক্রমশ পিছনে সরে যেতে লাগল সমুদ্রতট, জগন্নাথ মন্দিরের শীর্ষ দেশ। শহর ছেড়ে হাইওয়ে ধরল গাড়ি। রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ছোটখাট জনপদ। কোথাও কোথাও নতুন পুরনো মন্দিরও চোখে পড়ছে। ওড়িশার মন্দির শিল্পরীতি অনুসারে নির্মিত তাদের চুড়ো, অলঙ্কৃত প্রবেশ তোরণের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সিংহমূর্তি।
প্রায় এক ঘণ্টা চলার পর একটা মোড়ের সাইনবোর্ড দেখে বুঝতে পারলাম আমরা হীরাপুর পৌঁছে গিয়েছি। প্রথমে একটা সার্ভিস রোড তারপর গ্রামের রাস্তা ধরল গাড়ি। সবুজ গাছগাছালি ছাওয়া গ্রাম। রাস্তার পাশে মাঝে মাঝে ঘর বাড়ি, কোথাও বা ছোট মন্দির। খানিকক্ষণ সেই গ্রামের রাস্তায় চলার পরই বুঝতে পারলাম কনডাক্টেড ট্যুরের বাসগুলো কেন পর্যটকদের এ পথে আনে না। মুখোমুখি বা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো পরিসর বড় গাড়ির জন্য এ পথে নেই। রাস্তার স্থানে স্থানে পিচ উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। খানা-খন্দ ভরা। আর রাস্তা লাগোয়া পুকুরও আছে। যত এগতে লাগলাম, তত বুঝতে পারলাম গ্রাম হিসাবে হীরাপুর বর্ধিষ্ণু নয়। আধ ঘণ্টা ধরে সে পথ ধরে এগবার পর আমরা গন্তব্যে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামলাম।
একটা বিশাল প্রাচীন গাছ। তার একপাশে একটা বড় পুকুর বা দিঘি। আর অন্য পাশে গাছে ছাওয়া ফেনসিং ঘেরা একটা জায়গা। তার মধ্যে অবস্থান করছে ছাদহীন বৃত্তাকার একটা পাথুরে প্রাকার। ওটিই হল চৌষট্টি যোগিনীর মন্দির। শাস্ত্র মতে, চৌষট্টি যোগিনীর মন্দির ওভাবেই নির্মিত হয়। এ মন্দিরও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা ছাড়া একজন ট্যুরিস্টও চোখে পড়ল না সেখানে। এমন কী স্থানীয় মানুষও নয়। কেমন যেন এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে চৌষট্টি যোগিনীর মন্দিরটিকে ঘিরে। বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটা বাজে। গাছের ফাঁক দিয়ে দিন শেষের নরম আলো এসে পড়েছে মন্দির প্রাকারে। যে জায়গা দিয়ে ফেনসিংয়ের ভিতর প্রবেশ করে মন্দিরের দিকে এগতে হয় তার পাশে একটা টিকিট কাউন্টার আছে, কিন্তু তা বন্ধ। দেখে মনে হয় অনেকদিন তা খোলা হয় না। তবে প্রবেশ তোরণ উন্মুক্ত। তার পাশে আর্কিওলজিকাল সার্ভের বিবর্ণ হয়ে যাওয়া সাইনবোর্ডে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু কথা লেখা আছে— নবম শতাব্দীতে ব্রহ্ম রাজবংশের রানি হীরাদেবী কর্তৃক এই চৌষট্টি যোগিনীর মন্দির নির্মিত হয়। বেলেপাথরের তৈরি বৃত্তাকার উন্মুক্ত ছাদের এই মন্দিরকে ঘিরে অবস্থান করেন চৌষট্টি যোগিনী। কিংবদন্তি অনুসারে, দেবী দুর্গা দৈত্য নিধনের জন্য চৌষট্টিটি রূপ ধারণ করেন। অসুর নিধন শেষে তিনি চৌষট্টিটি রূপে এ মন্দিরে অবস্থান করছেন। এই মন্দির ভারতের প্রাচীনতম চৌষট্টি যোগিনী মন্দির। রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে এ মন্দিরের দূরত্ব কুড়ি কিলোমিটার।
তোরণ অতিক্রম করে নিঃস্তব্ধ মন্দিরের দিকে এগলাম। মন্দিরের ভিতরেও লোকজনের সমাগম নেই। বৃত্তাকার জায়গার কেন্দ্রস্থলে একজন কেয়ারটেকার বা গাইড ধরনের লোক বসেছিল। আমাদের দেখে সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘আসুন, আপনাদের এই মন্দিরের মূর্তিগুলো চিনিয়ে দিচ্ছি।’
তার কথাতে আপত্তি করলাম না। সে সঙ্গ নিল আমাদের। বৃত্তাকার জায়গাটা খুব বড় নয়। তার কেন্দ্রস্থলে যে মন্দির গৃহটি রয়েছে তার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন কালী। আর তাকে ঘিরে বৃত্তাকার প্রাকারের গায়ে ক্ষুদ্রকক্ষ বা কুলুঙ্গির মতো জায়গায় অবস্থান করছে চৌষট্টি যোগিনী। ধীরে ধীরে মূর্তিগুলোর কাছে গিয়ে এক এক করে তাদের দেখতে শুরু করলাম। কালো পাথরের তৈরি যোগিনী মূর্তিগুলির দেহের গঠন বা দাঁড়াবার ভঙ্গিমা পৃথক। উন্মুক্ত আকাশের নীচে দেওয়ালের গায়ে হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মূর্তিগুলোর কোনও কোনওটা ক্ষতিগ্রস্ত, অঙ্গহীন। প্রাচীন ভারতীয় ভাস্কর্যের এক অপূর্ব নিদর্শন এই মূর্তিগুলো। কয়েকটি মূর্তির গলাতে শুকনো জবা ফুলের মালা পরানোও আছে। লোকটার কাছে জানতে চাইলাম, ‘এ মন্দিরে পুজো হয়? লোকজন দেখতে আসে এ মন্দির?’
লোকটা জবাব দিল, ‘এ মন্দির হল শক্তি মন্দির। তন্ত্র সাধনার জায়গা। প্রধানত যারা তন্ত্র সাধনা করে, তারা তান্ত্রিক মতে পুজো দিতে আসে। তবে সরকারি নির্দেশ মতো এখানে কোনও তান্ত্রিক বা সন্ন্যাসীকে থাকতে দেওয়া হয় না। তারা সাধারণত অমাবস্যার দিন আসে। যোগিনীদের আরাধনা বা পুজো করে আবার ফিরে যায়। এই যে আপনি যোগিনীদের দেখছেন তাঁরা আলাদা আলাদা ক্ষমতা বা শক্তির উৎস। নিজেদের আকাঙ্ক্ষা মতো এক-একজন তান্ত্রিক এক-একজন যোগিনীর পুজো করে। দু’দিন আগেই অমাবস্যা গেছে। ওই শুকনো জবার মালা বা ধূপগুলো তাদেরই দেওয়া। আশপাশের গ্রামের কিছু মানুষও আসে কখনও সখনও। তবে তারা আসে দেবী কালীর পুজো দেবার জন্য।’
এ কথা বলার পর সে বলল, ‘আপনার মতো ট্যুরিস্টরা আর ছবি তোলার জন্য লোকরা কখনও সখনও এখানে আসে। এমনিতে এ মন্দিরের ভিতর ছবি তোলার নিয়ম নেই। দরজার পাশে সাইনবোর্ডে সে কথা লেখা আছে। যোগিনীদের ছবি তুলতে হলে সরকারি বিভাগ থেকে পারমিশন নিয়ে আসতে হয়। তবে আমি যখন আছি, তখন আপনি ইচ্ছা মতো যোগিনীদের ছবি তুলতে পারেন, কোনও সমস্যা হবে না।’—এ কথা বলে হাসল লোকটা।
মন্দিরের ভিতরে ঢোকার সময় দরজার পাশে লেখা সাইনবোর্ডটা আমি খেয়াল করিনি। আমার সঙ্গে ক্যামেরা না থাকলেও পকেট থেকে মোবাইল ফোন বার করেছিলাম যোগিনীদের ছবি তোলার জন্য। সেটা অনুমান করে আর বাড়তি উপার্জনের আশাতেই খাঁকি পোশাক পরা লোকটা কথাগুলো বলল।
দেখতে লাগলাম মূর্তিগুলো। লোকটাই আমাকে মূর্তিগুলো চিনিয়ে দিতে লাগল। কোনটি নারায়ণী, কোনটি দেবী কালরাত্রি, দেবী জ্বালাকামিনী, দেবী ঐন্দ্রী। দেবী গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী, কাবেরীও এ মন্দিরে যোগিনী রূপে বর্তমান। একই সঙ্গে সে লোকটা আমাকে আলাদা আলাদা যোগিনীর কোন কোন দৈব ক্ষমতা আছে তাও বলতে লাগল। মূর্তিগুলো দেখতে দেখতে চক্রাকারে সেই স্থান ঘুরতে ঘুরতে খেয়াল করলাম কয়েকটি কুলুঙ্গি শূন্য অবস্থায় আছে। কোনও মূর্তি নেই সেখানে। মূর্তিগুলো কোথায় তা জিজ্ঞেস করায় লোকটা একটু ইতস্তত করে বলল, ও মূর্তিগুলো ভেঙে গিয়ে থাকতে পারে, সরকারি লোকজন মূর্তিগুলো মিউজিয়ামে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে, আবার হয়তো চুরিও হয়ে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিক কিছু জানি না। লোকটার শেষ অনুমান যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে সেটা একটা মারাত্মক ব্যাপার।
মূর্তিগুলো দেখতে দেখতে হঠাৎই অদ্ভুত দর্শন এক যোগিনী মূর্তি বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। এমন অদ্ভুত মূর্তি আগে কোনওদিন দেখিনি। মূর্তির দেহ নারীর হলেও তার মাথাটা হাতির বা গণেশের। সঙ্গী লোকটি বলেন, ‘ওই হস্তীমুখী যোগিনীর নাম বরাহী। অসুর বা দানব নিধনের সময় ভগবান বিষ্ণু দেবীকে যে শক্তি দিয়েছিলেন তা গ্রহণ করে দেবী দুর্গা হস্তীরূপ ধারণ করেছিলেন দানবকে পদদলন করার জন্য।’
প্রাচীন বাংলার কৃষকরা ‘বরাহী’ নামের এক শূকরদেহী দেবীর পুজো করতেন শস্য উৎপাদনের দেবী রূপে। এ ব্যাপারটা আমার জানা ছিল। কিন্তু ‘বরাহী’ নামের হস্তীমুখী যোগিনী মূর্তির কথা আমার জানা ছিল না। মন্দিরের ভিতর শান্ত-শীতল পরিবেশ ধীরে ধীরে ছায়াঘন হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ছ’টা বেজে গিয়েছে, সূর্য এবার ডুবতে বসেছে। উন্মুক্ত মন্দিরের মাথার ওপর দিয়ে দিন শেষে ঘরে ফিরছে পাখির দল। সব ক’টা মূর্তি দেখা শেষ হলে লোকটা আমার হাতে এক গোছা ধূপ আর দেশলাই দিয়ে জ্বালাতে বলল মন্দিরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কালী মূর্তির সামনে। তার কথা মতো ধূপ জ্বালিয়ে কালী মূর্তি আর যোগিনীদের প্রণাম জানালাম। লোকটা বকশিস নিয়ে বলল, ‘চলুন বাবু, এবার আপনাদের সঙ্গে আমাকেও বাইরে বেরিয়ে দরজায় তালা দিয়ে ফিরতে হবে। এটা তন্ত্র মন্দির। অন্ধকার নামার পর এ মন্দিরের ভিতর কেউ থাকে না। কেউ কেউ বলেন, অন্ধকার নামার পর নাকি যোগিনীরা জীবন্ত হয়ে এই মন্দিরের ভিতরটা প্রদক্ষিণ করে। বিনা আরাধনাতে যোগিনীদের দেখলে নাকি তাঁরা রুষ্ট হন। দর্শনধারীদের ক্ষতি হয়।’ লোকটার সঙ্গে মন্দিরের বাইরে বেরলাম আমরা। লোকটা দরজাতে একটা তালা ঝুলিয়ে এগিয়ে গেল। আমরা গাড়িতে উঠে বসলাম। চারপাশে দ্রুত অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। মন্দিরের ভিতরেও অন্ধকার নিশ্চয়ই আরও গাঢ় হতে শুরু করেছে। হয়তো বা লোকটার কথা, স্থানীয় মানুষদের বিশ্বাস সত্যি। মন্দির যখন অন্ধকারে ডুবে যাবে, তখন জীবন্ত হয়ে কুলুঙ্গি থেকে নেমে আসবেন যোগিনীরা। তাঁরা প্রদক্ষিণ করবেন মন্দির! ক্ষুদ্র মানুষ আমি, পৃথিবীতে কত গূঢ়-গোপন ঘটনা ঘটে চলে তার আমি তো কিছুই জানি না। তবে আমার ফেরার পালা ভরা মন নিয়ে। এক আশ্চর্য সুন্দর পুরাকীর্তি দর্শন করলাম। দেখলাম পাথর খোদিত অপরূপ যোগিনীদের, চৌষট্টি যোগিনীর মন্দির।