নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ফড়েদের দাপট কমাতে চাষির কাছ থেকে একবারে সর্বোচ্চ ধান কেনার পরিমাণ কমাল খাদ্য দপ্তর। এবার এক দফায় একজন চাষির কাছ থেকে সহায়ক মূল্যের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ১৫ কুইন্টাল ধান কিনবে খাদ্য দপ্তর। গতবারের মতো চলতি বছরও ৩ লক্ষ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগচ্ছে জেলা খাদ্য দপ্তর। তার জন্য সর্বমোট ৩০ টি ধানক্রয় কেন্দ্র খোলা হচ্ছে জেলাজুড়ে। এর মধ্যে প্রান্তিক এলাকার চাষিদের জন্য ভ্রাম্যমাণ ধান ক্রয় কেন্দ্র থাকছে ৬ টি। আর এই কাজে সহায়ক হিসেবে খাদ্য দপ্তরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করবে রাইস মিল, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, কিছু সোসাইটি এবং এফপিসিগুলি।
প্রান্তিক চাষিদের অভাবী বিক্রি রুখতে ফি বছর নানা বিধিব্যবস্থা নেয় খাদ্য দপ্তর। মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়েদের বাড়বাড়ন্ত আটকাতে ভ্রাম্যমাণ ধান ক্রয় কেন্দ্র থেকে শুরু করে দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে ধান ক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা। গতবার স্থায়ী ধান ক্রয় কেন্দ্র ছিল ২৩ টি। এবার ২৪ টি কেন্দ্র করা হয়েছে। কারণ প্রতিবছর সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হলেই ফড়েদের সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ ওঠে। চাষিদের থেকে অনেকসময় বাজারের তুলনায় কম দামে ধান কিনে নেয় তারা।
জেলা খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর, চাষিদের ধান বিক্রিতে উৎসাহিত করতে ধান কেনার সহায়ক মূল্য বেড়েছে। গতবার প্রতি কুইন্টাল ধানের সহায়ক মূল্য ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। এবার দাম ২ হাজার ৩৬৯ টাকা। সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রে সরাসরি বিক্রি করলে মিলবে অতিরিক্ত ২০ টাকা। জেলা খাদ্য নিয়ামক রানু সমাজদার হীরা বলেন, অভাবী বিক্রি রুখতে প্রত্যেকবার আমাদের দপ্তর এই বিশাল কর্মকান্ড চালায়। এবারও সেই প্রক্রিয়া চলবে। এবার আমাদের টার্গেট ৩ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনার। এতে উপকৃত হবেন অন্তত ৯৯ হাজার কৃষক। তাঁর সংযোজন, এবার ফড়েদের দৌরাত্ম্য রুখতে নতুন নিয়ম করা হয়েছে। এবার একজন চাষি একবারে ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান বিক্রি করতে পারবেন না।