নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বছর গড়ালেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এসআইআর ইস্যুতে বুথস্তর থেকে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার দলের নির্দেশ, ২০০২ ও ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা হাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি বাড়িতে যেতে হবে। প্রত্যেক বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০০২সালের পাশাপাশি ২০২৪ এর তালিকাও মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কারণ, বহু ভোটার ২০০৩সালের পর ভোটাধিকার পেয়েছেন। আমাদের মূল লক্ষ্য একজনও বৈধ ভোটার যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে এরাজ্যে এসআইআর চালু করা হচ্ছে। এসআইআরের জেরে বিহারে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬৫লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে এরাজ্যে এসআইআর করা নিয়ে সরব হয়েছে শাসকদল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক মঞ্চ থেকে দলীয় নেতা-কর্মী সহ সাধারণ মানুষকে এসআইআর ইস্যুতে সতর্ক করেছেন। একজন ভোটারেরও নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে সেব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শও দিয়েছেন। এবার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা পৃথক দু’টি ভোটার তালিকা হাতে ময়দানে নামতে চলেছেন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তরফে ২০০২সালের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই তালিকা হাতে শাসকদলের নেতা-কর্মীরা বুথভিত্তিক প্রতিটি ভোটারের বাড়ি যাবেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবীণ ভোটারদের চিহ্নিত করতে ২০০২সালের তালিকাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ওইসময় বা তার পর ভোটাধিকারপ্রাপ্ত ভোটারদের চিহ্নিত করতে ২০২৪সালের তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত না থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে। সামগ্রিক কাজের তদারকি করবেন দলের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএরা। প্রয়োজনে তাঁরা ব্লক সভাপতিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। সেইসঙ্গে তাঁদের দিয়ে পৃথকভাবে সার্ভের কাজ করানো হবে। এরপর সেই তালিকা জেলা নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে সেই তালিকা জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিটি বৈধ ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত করাই দলের লক্ষ্য। শাসক নেতৃত্বের কথায়, একজনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।