সংবাদদাতা, কল্যাণী ও বনগাঁ: দুই সমবায়ে দুই চিত্র। চাকদহের একটি কৃষি সমবায়ে জিতল তৃণমূল। অন্যদিকে গাইঘাটায় মৎস্যজীবীদের সমবায়ে জয়ী হল বিজেপি। চাকদহ ব্লকের তাতলা ২ পঞ্চায়েতের জয়কৃষ্ণপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের নির্বাচনে সোমবার সকাল ১১টা থেকে মোট ন’টি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুর দুটোয় তা শেষ হয়। দেখা যায়, বিরোধীরা কেউ মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওই সমবায় সমিতি তৃণমূলের দখলে চলে গেল। এনিয়ে চাকদহের বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ বলেন, বহিরাগতরা এলাকা ঘিরে রেখেছিল। কাউকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাই আমরা মনোনয়ন জমা করতে পারিনি। তবে, রাজ্য যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি শুভঙ্কর সিংহ বলেন, মিথ্যা অভিযোগ। সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্যই বিরোধীরা প্রার্থী দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, গাইঘাটা গোপালপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নির্বাচনে সবকটি আসনে জয়ী হল বিজেপি। সমিতির ১২টি আসনে সোমবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল ও বিজেপি সব ক’টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। সিপিএম চারটি ও নির্দল রা দু’টি আসনে প্রার্থী দেন। সমিতির মোট ভোটার ৫৮০ জন। এদিন ৫০৯ জন ভোটে অংশ নেন। রাতে ফল ঘোষণা হয়। বিজেপির দাবি, দীর্ঘ ১০ বছর পর নির্বাচন হল। এত দিন এই সমবায় তৃণমূলের দখলে ছিল। এদিন ভোট ঘিরে কড়া পুলিসি নিরাপত্তা ছিল। সমবায়ের সবকটি আসনে জয়ী হয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। এবিষয়ে বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর তৃণমূল সমবায় দখল করে রাখলেও কোনও কাজ করেনি। তাই মানুষ এর জবাব দিয়েছে। দলের ভরাডুবি সম্পর্কে তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, বনগাঁ, বাগদাতে সমবায় নির্বাচনে আমরা ভালো ফল করলেও গাইঘাটায় বারবার পরাজয় হচ্ছে। সাংগঠনিক কোনও গাফিলতি আছে কি না খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গড়ে তদন্ত করা হবে।